আকাশ ছুঁতে চাই ৯১
এবারের পর্ব
১. তিন প্রজন্মের নারী শিল্পী
২. ৭৫ বছরে চীনের নারী ও শিশুদের অগ্রগতি
৩. উইচ্যাটে নারীদের সহযোগী দল
আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠান থেকে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আজকের অনুষ্ঠানে আপনাদের বলবো তিন প্রজন্ম ধরে কারুশিল্পকে বয়ে নিয়ে চলা এক মা ও কন্যার গল্প। রয়েছে ৭৫ বছরে চীনের নারী শিশুর উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন এবং চীনে বাস করা এক জন বিদেশি নারীর কথা।
তিন প্রজন্মের নারী শিল্পী
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়াও নারীরা তাদের নকশীকাজের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। চীনের কুইচৌ প্রদেশের মিয়াও জাতির একটি পরিবার কিভাবে নানী, মা ও মেয়ের মাধ্যমে এীতহ্যের ধারা বহন করছেন শুনবো সেই গল্প।
কুইচৌ প্রদেশের এক প্রবীণ নারী শি ইয়াংচিউ। তার বয়স এখন ৭৩ বছর। মাত্র এগারো বছর বয়সে তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন সুই সুতো। এরপর থেকে তিনি মিয়াও নকশী কাজে পার করেছেন জীবনের দীর্ঘ সময়। ৪৯টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রদেশ কুইচৌ। এদের অন্যতম মিয়াও জাতিগোষ্ঠী। মিয়াও জাতির লোকজ সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মিয়াওদের নকশী কাজ বা মিয়াও এমব্রয়ডারির রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। এই এমব্রয়ডারি শুধুমাত্র নারীরাই করেন। তারাই জানেন প্রতিটি নকশার ভাঁজে লুকিয়ে আছে কি গোপন রহস্য। প্রকৃতপক্ষে মিয়াও এমব্রয়ডারির মধ্যে তাদের জাতির ইতিহাস, লোককাহিনী ব্যক্ত করা হয়। মিয়াও নকশী কাজ অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে। এই ঐতিহ্যের একজন ধারক বা ইনহেরিটর হলেন শি ইয়াংচিউ। তিনি তার মায়ের কাছ থেকে শিখেছিলেন এই কারুশিল্প। শি ইয়াংচিউ তার মেয়ে শি ছুয়ানইয়িংকে এই শিল্প শেখানো শুরু করেন । ছুয়ানইয়িংয়ের তখন মাত্র ১১ বছর বয়স।
শি ছুয়ানইয়িং বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বিশ্বে এক পরিচিত ব্যক্তি। তিনি মিয়াও নকশার উজ্জ্বল ও সাহসী রঙগুলোকে তুলে ধরেছেন ফ্যাশন জগতে।
শি ছুয়ানইয়িং বলেনতিনি তার মা ও নানীর কাছ থেকে শিখেছেন। শি ইয়াংচিউ মনে করেন তার মেয়ে বেশি দক্ষ শিল্পী। কারণ সে এর সঙ্গে যোগ করেছে আধুনিক চিন্তা।