আকাশ ছুঁতে চাই ৮৫
ঘরের সব ভেসে গেছে পানিতে। তারপরও অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ঘরেই পড়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবারত খাতুন। তিনি জানায়, “ আমার একটা রুগি অসুস্থ ।ঘরের মধ্যে পইরা রইছে। খাওয়া-দাওয়া নাই। ঘর দুয়ার চুলায় নিয়া গেছে। ”
নিজ বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি যাচ্ছেন শাহীনা সুলতানা। সঙ্গে তার মুরগি। তিনি জানান
‘সব পানিতে ভেসে গেছে। এখন বাপের বাড়ি যাচ্ছি। ঐখানে পানি ওঠে নাই। আমার যখন পানি কমবো তখন ফিরে আসবো”।
একই এলাকার বাসিন্দা শাহিদা বেগম। ছোট বাচ্চাদের স্কুলে রেখে নিজে বাড়িতেই রয়ে গেছে।
তিনি জানায়, ‘ সবাইরে স্কুলে দিয়ে আইছি। এইখানে আমি একাই থাকতেছি। কনরকম চলতেছে। কোন কিছু খাওয়ার পাই না। সকাল থেকে কিছু খাই নাই’।
বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। আর তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নারীই থাকে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। এ সময় লবণাক্ত পানির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই এবারের বন্যায় নোংরা, লবণাক্ত পানির কারণে নারীরা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খুব স্বাভাবিকভাবে গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই এই সময় গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী নারীরা অনেক বেশি কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন। স্যানিটারি ন্যাপকিন, গর্ভবতী মায়ের উপকরণ সহজলভ্য হয় না। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নেই ঋতুকালীন নারীদের উপযুক্ত পরিবেশ। তাই নোংরা পানি বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনের কারণও হতে পারে। তাইতো আশ্রয়কেন্দ্রের অনিরাপদ পরিবেশে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।