আকাশ ছুঁতে চাই ৮৫
নিংসিয়া হুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের চোংনিং কাউন্টির তাচানছাং গ্রামের অধিবাসীরা এভাবেই বিভিন্ন পণ্য সরাসরি বিক্রি করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করে তুলছেন। তবে লাইভ স্ট্রিমিং শেখাটা চাং এর জন্য সহজ হয়নি। চার বছর আগে যখন প্রথম লাইভ স্ট্রিমিং শুরু করেন তখন ঠিকভাবে গুছিয়ে কথা বলতেও পারতেন না। তবে তিনি বুঝতে পারেন এইভাবে বাজারজাত করণের মাধ্যমে বিক্রি অনেক বেশি করা সম্ভব।
চাংয়ের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তাচানছাং টাউনের ৭৯ হাজার বাসিন্দা অনলাইন কমার্সে আগ্রহী হন। এই টাউনের ৬৩ শতাংশ হুই জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
মাটন, বিফের পাশাপাশি এখানকার আরেকটি জনপ্রিয় কৃষিপণ্য গোজি বেরি। ২০২০ সালের পর থেকে এখানে লাইভ স্ট্রিমারদের সংখ্যা বাড়ে। কাউন্টির প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া ইনকিউবেশন বেস প্রতিষ্ঠিত হয়। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে গোজি বেরিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিক্রি হয়।
ইনকিউবেশন বেসের মাধ্যমে লাইভস্ট্রিমিং ক্রেজ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ক নীতি ও চর্চা সংক্রান্ত জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে অনেক কৃষকের মধ্যে। এজন্য স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীরা কৃষকদের কিভাবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইভস্ট্রিমিং করতে হয় তা শেখাচ্ছেন। ইয়ুয়ানফ্যং গ্রামের পার্টি সেক্রেটারি লি সিংমেই। তিনি একজন উদ্যোগী নারী। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেছি ।তাদেরকে লাইভস্ট্রিমিং কিভাবে করতে হয় সেটা শিখিয়েছি। জনমত ও অনলাইন রেপুটেশন বিষয়ে সচেতন করেছি। আমি সাধারণত আমার লাইভস্ট্রিমিংয়ে নীতিসমূহ নিয়ে কথা বলি।বিশেষ করে গ্রামীণ গৃহনির্মাণ, কৃষি ও পশুখামার স্থাপনে সরকারের ভর্তুকি সুবিধাগুলো জানাই। আমরা কয়েক ডজন ভিউয়ার দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন ত্রিশ জন থেকে তা দুইহাজার, তিনহাজার, এমনকি পাঁচ হাজারে পৌছেছে।’
ইয়ুয়ানফ্যং গ্রাম লাইভ স্ট্রিমার, গ্রামীণ সমবায় ও কৃষকদের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি মডেল স্থাপন করেছে এবং ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনসহ পণ্য বাজারজাতকরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।
গ্রামের অনেক নারী এ থেকে উপকৃত হচ্ছেন। ইয়ুয়ানফ্যং গ্রামের একজন নারী লিন সাইসিয়া বলেন, ‘গ্রামীণ প্লাটফর্মের মাধ্যমে তিন মাসে ২০ হাজার ইউয়ানের বেশি আয় করেছেন তিনি।’
তাচানছাং গ্রামে এখন ১১৩জন নিয়মিত লাইভস্ট্রিমার আছেন যারা গত তিন বছরে ১৭০ মিলিয়ন ইউয়ানের বেশি বিক্রি করেছেন এবং ছয় শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।
প্রতিবেদন: শান্তা মারিয়া
সম্পাদনা: ফয়সল আবদুল্লাহ
সিছুয়ানের টুর গাইড নারী ওয়াং লি
চীনে এখন অনেক নারী টুর গাইড হিসেবে বেশ সফল ক্যারিয়ার গড়ছেন। এমন একজন নারীর গল্প বলবেন হোসনে মোবারক সৌরভ
চীনের সিছুয়ান প্রদেশের একজন নারী টুর গাইড ওয়াং লি। তিনি থাওফিং ছিয়াং গ্রামের এক বাসিন্দা। তিনি জানান, চীনের একটি সাম্প্রতিক প্রবণতা হলো চলচ্চিত্রে কোন স্থান দেখানো হলে সে জায়গার প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে সম্প্রতি তার ক্যারিয়ার জমে উঠেছে। সম্প্রতি তার গ্রামে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং হয়। চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর এই গ্রাম দেখতে আসছেন অনেক দেশি বিদেশি পর্যটক।
ওয়াং লি টিবেটান এথিনিক পোশাক পরেন এবং পর্যটকদের সিনেমার গল্প বলে আরও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।
সুপ্রিয় শ্রোতা। আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পৌছে গেছি আমরা। সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আবার কথা হবে আগামি সপ্তাহে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।
সার্বিক সম্পাদনা : ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী
লেখা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: শান্তা মারিয়া
অডিও সম্পাদনা: হোসনে মোবারক সৌরভ