আকাশ ছুঁতে চাই ৭৬
মিং রাজবংশের সময় (১৩৬৮-১৬৪৪ সাল) সোংচিয়াং কু এমব্রয়ডারির উদ্ভব ঘটে। এর আরেক নাম পেইন্টেড এমব্রয়ডারি’। এই নকশীকাজ কখনও মেশিনে করা সম্ভব নয়। ছিয়ান ইয়ুফাং এই শিল্পের ষষ্ঠ প্রজন্ম। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি এই এমব্রয়ডারি নিয়ে কাজ করছেন। এই নকশিকাজ মূলত নারীদের শিল্পকর্ম।
ছিয়ান ইয়ুয়েফাং জানান, ‘ হাতের এমব্রয়ডারির জায়গা কখনও মেশিন নিতে পারবে না। কু এমব্রয়ডারিকে বুঝতে হলে পেইন্টিং বুঝতে হবে। আমরা আমাদের আবেগ এই সুঁচের কাজের মধ্য দিয়ে কাপড়ের বুকে ফুটিয়ে তুলি।’
ছিয়ান তার এই নকশী কাজের দক্ষতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।
সোংচিয়াং জেলার সোংচিয়াং কালচারাল অ্যাকটিভিটি সেন্টারের পরিচালক, ফেং ইয়েফ্যং জানান‘ কু এমব্রয়ডারি সোংচিয়াংকে পরিচিতি এনে দিয়েছে। এই কারুশিল্পকে রক্ষার মাধ্যমে আমরা সংস্কৃতিকে রক্ষা করছি এবং পরবর্তি প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছি।’
আগে কু এমব্রয়ডারি শুধু জাদুঘর ও আর্ট গ্যালারিগুলোতে রাখা হতো। এখন এটাকে আধুনিক করা হয়েছে। ব্যাগ, অলংকার, আধুনিক স্টাইলের পোশাকে এই নকশাকে জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে। এরফলে দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রীতে এই নকশীকাজ জনপ্রিয় হচ্ছে এবং পৌছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে।
কু এমব্রয়ডারি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের একজন নকশা শিল্পী চিন চিথিং বলেন,‘যখনি আমি নকশার মাধ্যমে একটি শিল্পকর্ম সৃষ্টি করি মনে হয় যেন এই শিল্পের মূলস্রষ্টার সঙ্গে কথা বলছি। এমন একটি অবৈষয়িক কারুশিল্প যেটি এত বছর ধরে টিকে রয়েছে, এমন শিল্পকর্মের সঙ্গে জড়িত হতে পেরে আমি গৌরব বোধ করছি।
এভাবেই শত শত বছরের প্রাচীন শিল্প কু এমব্রয়ডারি নারীর হাত ধরে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌছে যাচ্ছে, ছড়াচ্ছে নতুন আলো।