আকাশ ছুঁতে চাই ৩৪
বেলাব উপজেলার তেতুলতলা গ্রামের এই নারীর নিত্যদিনের কাজের অংশ হয়ে গেছে মুরগিকে খাওয়ানো, মুরগির যত্ন নেওয়া। অল্প পুঁজি, ছোট ছোট পদক্ষেপ আর পরিশ্রমে এখন এখন দুইটি খামারের মালিক তিনি।
নারী উদ্যোক্তা খাদিজা আক্তার জানান, “সাবলম্বী হওয়ার চিন্তা থেকেই ২০০৮ সালে খামার দেই। যখন লাভ হতে থাকে তখন এখান থেকে লাভের টাকা দিয়ে সংসারের খরচের পাশাপাশি আরেকটা ফার্ম দেই”।
দীর্ঘদিনের এই মুরগি পালনে খাদিজাকে পড়তে হয়েছে বেশকিছু সমস্যায়। তবে তার কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে চীনের শীর্ষ কৃষি শিল্প প্রতিষ্ঠান নিউ হোপ। প্রশিক্ষণ ও মুরগির মান সম্মত খাবারের যোগান খাদিজার চিন্তার ভাজ দূর করেছে। এখন তিনি জানেন মুরগি পালনের খুঁটিনাটি।
খাদিজা জানান, “ প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগে মুরগি পালনে নানা ধরণের ঝামেলার মধ্যদিয়ে যেতে হতো। দেখা যেত মুরগি প্রায়ই অসুস্থ হতো, মুরগির ওজন বেশি আসতো। কিন্তু প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এখন সমস্যা কেটে গেছে। এছাড়া হঠাত মুরগি অসুস্থ হলেও প্রশিক্ষকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করেও তাদের পরামর্শ নিয়ে থাকি। তারা খুব সহযোগিতা করে”।
আর্থিক অস্বচ্ছলতাকে বিদায় জানানোর যে লক্ষ্য নিয়ে খাদিজার এই খামার শুরু, সেই লক্ষ্যে আজ তিনি পৌছেছেন। খামার থেকে যে টাকা আয় করেন তাই দিয়ে চলছে তার সংসারের খরচ।
খাদিজা বলেন, “ এই ফার্ম দেওয়ার আগে আমাদের আর্থিক অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। টাকা ইনকাম করতে পারতাম না। ছেলে মেয়ের পড়ালেখা করাতে পারছিলাম না। এখন এই পোল্ট্রি ফার্ম থেকে যে টাকা আসে তাই দিয়ে সংসার চলছে। ছেলে মেয়ের পড়ালেখার খরচ চলছে। আগের থেকে এখন আমরা অনেক স্বচ্ছল”।
শুধু খাদিজা নয়, এই সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই এলাকায় তৈরি হয়েছে আরও নারী উদ্যোক্তা। বিশেষ করে মহামারি করোনার সময় তিন লাখ টাকা দিয়ে শুরু করেন মুরগি পালন। মাত্র তিন বছরে এরই মধ্যে করেছেন আরেকটি খামার। তার এই তিন বছরের নারী উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পেও সহযোগিতা করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানের নিউ হোপের প্রশিক্ষণ।
পারুল আক্তার, নারী উদ্যোক্তা
সংসারে স্বচ্ছলতার পাশাপাশি তেতুলতলার প্রত্যন্ত গ্রামের নারীরা এখন অনেকের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন।
পারুল আক্তার বলেন, “প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর আমাদের চারপাশের নারীরাও অনেক উদ্যোগী হয়েছে খামার করতে। তারাও স্বাবলম্বী হতে চায়। তারা চায় তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকবে। আমরাও তাদের পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করি”।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুই নারী উদ্যোক্তার মতো অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে আরও বহু নারী উৎসাহিত হচ্ছেন, এগিয়ে আসছেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যয়ে। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টির অন্যতম মাধ্যম তাদের এই মুরগি পালন। সহজ ব্যাবস্থাপনা ও ভালো বাজার দরের কারণে ব্রয়লয়ার মুরগি পালন বিভিন্ন জেলার নারীদের পছন্দের পেশায় পরিণত হয়েছে। এতে একদিকে যেমন পরিবারের মাংসের চাহিদা পুরণ হচ্ছে অন্যদিকে বাড়তি আয়ের উৎস বলেও মনে করছেন তারা।