মেড ইন চায়না: পর্ব-৯: চীনামাটি
এই ফাঁকে জেনে নেওয়া যাক চীনামাটি নিয়ে কয়েকটি তথ্য
· এশিয়ায় বরাবরই চীনের চীনামাটির পাত্র রফতানি হতো। সপ্তদশ শতাব্দিতে পশ্চিম ইউরোপের রাজদরবারেও চীনামাটি কেনার হিড়িক পড়ে যায়। এ সময় চীনামাটির পাত্র ইউরোপীয় সমাজের সবচেয়ে মূল্যবান উপহারে পরিণত হয়।
· এক হিসাবে দেখা গেছে সপ্তদশ শতাব্দীতে চীন প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ চীনামাটির পাত্র রফতানি করেছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে বছর সর্বোচ্চ প্রায় দশ লক্ষ চীনামাটির পাত্র রফতানি করার রেকর্ডও আছে চীনের।
· হাজার বছর আগেই চীন থেকে চীনামাটি রপ্তানি হতে শুরু করে পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে। মজার ব্যাপার হলো, প্রাচীনকালে চীন থেকে চীনামাটির পণ্য এত বেশি রপ্তানি হতো এবং এগুলো এতই জনপ্রিয় ছিল যে, অনেক দেশের মানুষ এখনও চীনামাটির জিনিসপত্রকে ‘চায়না’ নামেই ডাকে।
·
· এটি বলা বাহুল্য যে, বিশ্বে এখন সবচেয়ে বেশি চীনামাটির পণ্য রপ্তানি করে চীন। সারাবিশ্বে ২০২২ সালে চীন থেকে চীনামাটির তৈযশপত্র রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের।
ষোড়শ শতক থেকেই চীনের পোরসেলিন যেতে শুরু করে ইউরোপে। পরে উত্তর আমেরিকাতেও গড়ে ওঠে এর বাজার। ওই সময় মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে চীনামাটির তৈযশপত্রের কদর বাড়ে অনেক। আরব দেশগুলোর সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে ওই সময় চওড়া আকারের পাত্র তৈরি করতে শুরু করে চীনা কারিগররা। পর্তুগিজ বণিকরাই প্রথম মিং রাজবংশের আমলে চীনের সবচেয়ে দামি নীল ও সাদা রঙের চীনামাটির তৈযশপত্র আমদানি করে ইউরোপে।
চলুন শোনা যাক চীনামাটি নিয়ে আরও কয়েকটি তথ্য
· চীনের পোরসেলিন বা চীনামাটির জনপ্রিয়তার কারণে সপ্তদশ শতকের দিকে অনেক বিখ্যাত চিত্রকরের পেইন্টিংয়ে দেখা যায় চীনামাটির জিনিসপত্র, বিশেষ করে ফুলদানি ও পাত্রের ছবি।
· বিদ্যুতের ট্রান্সমিশন লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে চীনামাটি ব্যবহার করা হয়। কারণ চীনামাটি বেশ ভালো বিদ্যুৎ রোধক হিসেবে কাজ করে।