স্কুলে যেতে অনিচ্ছুক বাচ্চাদের জন্য পিতামাতার করণীয়
কোনো কোনো বাচ্চা মনে করে, তাদের পড়াশোনার দক্ষতা দুর্বল। তাঁরা স্কুলে শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনো প্রশংসার কথা শোনে না। তখন বাবা-মার উচিত বাচ্চাকে সাহস দেওয়া এবং তাঁরা যে আসলে লেখাপড়ায় অনেক ভালো, তা বোঝানো। কী করলে শিক্ষক প্রশংসা করবেন, তা নিয়েও বাচ্চার সাথে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে।
কোনো কোনো বাচ্চা অনেক পরিশ্রম করে পড়াশোনা করে। তাঁরা সবসময় রাত ১২টা পর্যন্ত স্কুলের হোমওয়ার্ক করে। তবে, তাদের পরীক্ষার ফলাফল অতো ভালো নয়। সেক্ষেত্রে বাবা-মা বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং বাচ্চার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারেন। পিতামাতার উচিত এসময় নিজেদের জ্ঞানবুদ্ধি প্রয়োগ করা এবং সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা এবং বাচ্চার সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা। বাচ্চাকে গাইড করা ও পরামর্শ দেওয়া পিতামাতার কাজ।
বাচ্চার আত্মবিশ্বাস কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকে পিতামাতা খেয়াল রাখতে পারেন। এমন ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের বলা যেতে পারে, যা বাচ্চা সহজে সমাধান করতে পারবে। তখন পিতামাতা তার প্রশংসা করবেন। এভাবে ধীরে ধীরে বাচ্চা বড় সমস্যা সমাধানের যোগ্যতাও অর্জন করবে।
পড়াশোনার তাত্পর্য কী? কেন পড়াশোনা করতে হবে? বাচ্চারা সহজে এ ধরনের প্রশ্ন করে থাকে। তখন বাবা-মার উচিত রেগে না যাওয়া এবং বাচ্চাদের সাথে এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। আলোচনার মাধ্যমে বাচ্চার জন্য একটি জীবনলক্ষ্য ঠিক করে দিতে পারেন পিতামাতা। জীবনলক্ষ্য ঠিক করার পর তাকে বলতে হবে, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাকে কী কী করতে হবে। তখন আশা করা যায়, বাচ্চা পড়াশোনায় আরও বেশি আগ্রহী হবে।
লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার পর বাচ্চার অবস্থা ও প্রাধান্য বিবেচনা করে, পরিকল্পনার কাঠামো নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। যখন স্বল্পকালীন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করার প্রশ্ন আসে, তখন বাচ্চাদের বেশি উত্সাহ দেখা যায়। এভাবে স্বল্পকালীন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে করতে তাঁরা দীর্ঘকালীন লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারেও আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।