স্কুলে যেতে অনিচ্ছুক বাচ্চাদের জন্য পিতামাতার করণীয়
২. অতিরিক্ত মানসিক চাপ। স্কুলের পড়াশোনা শেষে, নতুন মাধ্যমিক স্কুল বা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির আগে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিতে হয়। তখন শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ থাকে। সেই সময় অনেক ছাত্রছাত্রী পরীক্ষার কারণে উদ্বিগ্ন থাকে। তখন তাদের মধ্যে বিষন্নতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাদের মানসিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন হবে। তা নাহলে, তাদের পড়াশোনায় আগ্রহ দ্রুত হ্রাস পেতে পারে।
৩. মেজাজ নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার অভাব। অনেক বাচ্চা যখন চ্যালেঞ্জ বা সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন নিজের নেতিবাচক মেজাজ সমন্বয় করতে পারে না। নিজের বা অন্যের প্রতি রাগ বা অসন্তোষ প্রকাশ করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
৪. সামাজিক যোগাযোগে ভীতি। এমন বাচ্চারা সাধারণত অন্যদের সাথে কথা বলতে বা যোগাযোগ করতে চায় না। তাঁরা একাই থাকতে বেশ পছন্দ করে। তবে, দীর্ঘকাল ধরে নিঃসঙ্গতা ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায়।
৫. পারিবারিক পরিবেশ। পারিবারিক শিক্ষা এবং পিতামাতার সাথে সম্পর্ক ও কথা বলার পদ্ধতি বাচ্চাদের মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। যখন পারিবারিক সম্পর্ক বেশ উত্তেজনাময় হয়ে ওঠে এবং বাচ্চারা পিতামাতার কাছ থেকে সমর্থন পায় না, তখন তাদের মানসিক সমস্যা অন্য বাচ্চাদের চেয়ে আরও সহজে প্রকট হতে পারে।
বাচ্চার মানসিক সমস্যা দেখা দিলে, যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে চিকিত্সা গ্রহণ করা ভালো। কারণ, মানসিক সমস্যার সাথে শরীরের অসুস্থতার পার্থক্য রয়েছে। এ অসুস্থতা স্রেফ ওষুধ খেলে ভালো হয় না। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে চলা জরুরি।
বাচ্চাদের জন্য আশেপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ, পিতামাতার সাথে সুসম্পর্ক, পুষ্টিকর খাবার, যথেষ্ঠ ঘুম, যথাযথ খেলাধুলা এবং স্বাস্থ্যকর সামাজিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক উন্নয়ন ও মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে এই ফ্যাক্টরগুলো বড় ভূমিকা রাখে। তবে, একেক পরিবারে সহাবস্থানের পদ্ধতি ভিন্ন এবং বাচ্চাদের চরিত্রেরও মধ্যেও ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। তাই, বাবা-মার উচিত সবসময় বাচ্চার শরীরের স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার ওপর নজর রাখা।