স্কুলে যেতে অনিচ্ছুক বাচ্চাদের জন্য পিতামাতার করণীয়
এ সময় বাবা-মার উচিত বাচ্চার জায়গায় নিজেদের রেখে চিন্তা করা। বাচ্চার পড়াশোনার চাপ পছন্দ না। এটা সে পিতামাতার সাথে শেয়ার করতেই পারে। আমরাও কিন্তু নিজেদের কর্মস্থলে কাজের চাপ বেশি হলে, হতাশা প্রকাশ করি। কেউ কেউ চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলি। তখন বন্ধুদের উচিত সহমর্মী হওয়া। ঠিক তেমনি, বাচ্চাদের মনোভাবকেও সম্মান করতে হবে, তাদেরকে বোঝাতে হবে; তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করতে হবে।
বাচ্চাদের মানসিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। স্কুল সম্পর্কে তাদের নেতিবাচক মন্তব্য শুনে রাগ করা চলবে না। বরং তাদের সাথে এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। কেন তার স্কুল পছন্দ না? তার যুক্তি শুনতে হবে। যুক্তি শুনে তা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সাময়িকভাবে তা মেনে নিতে হবে। তারপর, ধীরেসুস্থে বাচ্চাকে বোঝাতে হবে যে, স্কুলের সবকিছু মনের মতো নাও হতে পারে, কিন্তু সবকিছু খারাপ না। স্কুলের ভালো ভালো দিকগুলো বাচ্চার সামনে তুলে ধরতে হবে। স্কুলের যাকিছু বাচ্চার পছন্দ না, সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। এভাবে বাচ্চার নেতিবাচক মনোভাব অনেকটাই দূর করা সম্ভব। রাগারাগি করলে একসময় দেখা যাবে বাচ্চা আর কোনো কথা শেয়ার করবে না। এটা আরও বিপদের কথা।
স্কুলে যেতে না চাওয়ার সাথে বাচ্চার আবেগ জড়িত থাকতে পারে। বর্তমানে প্রাথমিক স্কুল থেকে উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ভিন্ন বয়সের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এ সমস্যা দেখা যাচ্ছে। সাধারণত, যখন তাদের মেজাজগত সমস্যা থাকে, তখন তার নেতিবাচক প্রভাব তাদের শরীরেও পরে। এ সম্পর্কে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যার বিশেষজ্ঞ ডক্টর ইউয়ান চুন লিয়াং বলেন, স্কুলে যেতে না-চাওয়া বাচ্চাদের কয়েক ধরনের মানসিক সমস্যা থাকতে পারে:
১. আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানবোধে দুর্বলতা। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের অনেকে নিজেদের পছন্দের স্কুলে ভর্তি হতে পারে না। তখন তাদের পরীক্ষার ফলাফল আরও খারাপ হয়।