আকাশ ছুঁতে চাই ৪৫
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ বিভিন্ন দেশের নারীদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প চায়না পাকিস্তান ইকোনোমিক করিডোর বা সিপেক । এই সিপেক পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের জীবনে নিয়ে এসেছে সমৃদ্ধির সুবাতাস। চলুন শোনা যাক সেই দিন বদলের গল্প।
গুলাম খাতুন। পাকিস্তানের দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের থর মরুভূমির এক গ্রামের এক দরিদ্র গৃহবধূ ছিলেন কয়েক বছর আগেও। জীবনে দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী। একটা বাইসাইকেল চালানোর কথাও চিন্তা করেননি কখনও।
অথচ এখন তিনি নিজে হাতে ট্রাক চালিয়ে যাচ্ছেন মরুভূমির বুক চিরে যাওয়া প্রশস্ত সড়ক দিয়ে। এই পরিবর্তন তার ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবনটা রূপকথার মতোই বদলে দিয়েছে। এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে সিপেক এর ফলে।
চীনের উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিনচিয়াং এর কাশগর শহর থেকে পাকিস্তানের দক্ষিণ পশ্চিমের গাদার স্থল বন্দরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে সিপেক। সিপেক এর থর কোল ব্লক টু কয়লা বিদ্যুত প্রকল্পের একজন পেশাদার ট্রাক চালক হলেন গুলাম খাতুন। গুলাম খাতুন জানান চীনা কোম্পানি ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান তাকে চাকরি দেয়নি। তারা বিশ্বাসই করতে পারেনি গ্রামের একজন দরিদ্র গৃহবধূ থর মরুভূমির ভিতর দিয়ে ট্রাক চালিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পারবে।
কিন্তু গুলাম খাতুন তার উপরে আস্থা রাখা মানুষদের হতাশ করেননি। তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অনুশীলন করেছেন। এরফলে যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন।
তার রোজগারে পরিবারের সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। শিশুরা ভালো শিক্ষা পাচ্ছে, পুষ্টিকর খাদ্য পাচ্ছে। তাদের পরিবারে সুখ শান্তি এসেছে। শুধু গুলাম খাতুনই নন, আরও কয়েক ডজন নারী এই সিপেক প্রকল্পে কাজ পেয়েছেন। তাদের ক্ষমতায়ন হয়েছে, জীবনে এসেছে সমৃদ্ধি।
চীন প্রস্তাবিত বেল্ট রোড উদ্যোগ এভাবেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তনের কাহিনী সৃষ্টি করছে।
তিব্বতের পশুপালক নারীদের জীবনে সুবাতাস
চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত বা সিচাং এর অনেক মানুষের জীবিকা পশুপালন। তারা অধিকাংশই যাযাবর। যাযাবর নারী পুরুষ দুজনকেই প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। সেইসঙ্গে রয়েছে অস্থায়ী বাসস্থানের সমস্যা। তবে সেই সমস্যা সমাধানে এখন হাউজিং প্রকল্প গ্রহণ করেছে স্থানীয় সরকার। কিভাবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে যাযাবর নারীদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি এসেছে এখন শুনবো সেই গল্প।
চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত বা সিচাং। এই অঞ্চলের ডামসুং কাউন্টি। তিব্বতি ভাষায় এর অর্থ সাবধানে বাছাই করা চারণভূমি। নাইয়াইনছেনতাংইহা পর্বতমালার দক্ষিণ পাদদেশে অবস্থিত এই স্থানের গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪২০০ মিটার। এখানে মূলত পশুপালকদের বাস। পুরুষরা প্রধানত পশুপাল নিয়ে গ্রীষ্মে চারণভূমিতে যান। শীতের শুরুতে তারা পশুপাল নিয়ে নিচের শীতকালীন চারণভূমিতে আসেন।
পশুপালক পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা আগে ছিল অত্যন্ত কঠিন। যাযাবর জীবনে তাদের বাড়িরঘরের অবস্থা ভালো ছিল না। পরিবারের নারীদের ভীষণ কঠিন শ্রম করতে হতো। শিশুদের স্কুলের লেখাপড়াও যাযাবর জীবনের কারণে বাধাগ্রস্ত হতো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিচাংয়ে কৃষক ও পশুপালকদের জন্য হাউজিং প্রজেক্ট গ্রহণ করা হয়েছে। চমরী গরুর পশম দিয়ে তৈরি তাবুর পরিবর্তে এখন ইট পাথরের বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে। কখনও কখনও বোর্ডের বাড়ি তৈরি হয়েছে যেগুলো এমনিতে মজবুত অথচ জায়গা বদল করা যায়। এসব নতুন বাড়িতে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো। এর ফলে জীবন এখন অনেক সহজ হয়েছে। নারীদের জন্য সহজ হয়ে উঠেছে গৃহস্থালি কাজ।
শিশুদের যত্নও হচ্ছে ভালোভাবে। স্থানীয় এক পশুপালক ইয়োনতেন। এখন ইয়োনতেন পরিবারের আয় বেড়েছে। স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে ফুটেছে হাসি। ইয়োনতনের স্ত্রী একজন পরিশ্রমী নারী।
তিনি ডাবুক নামের একটি গ্রামের বাসিন্দা। শীতকালীন চারণভূমিতে এখন তার বাড়িঘরের কাজ অনেক সহজ হয়েছে আগের সেই তাঁবুতে বাস করার দিনগুলোর তুলনায়। তাকে চমরী গরুর দুধদোয়ানো, মাংস কেটে শুকানো, পশুপালের যত্ন থেকে শুরু করে অনেক কাজই করতে হয়। তবে ঘরের পরিবেশ উন্নত হওয়ায় কাজগুলো সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। নারীর জীবনে এসছে কিছুটা আরাম ও স্বস্তি।
প্রতিবেদন: শান্তা মারিয়া
সম্পাদনা: রহমান
সুপ্রিয় শ্রোতা আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পৌছে গেছি আমরা।
অনুষ্ঠানটি কেমন লাগছে সে বিষয়ে জানাতে পারেন আমাদের কাছে। আপনাদের যে কোন পরামর্শ, মতামত সাদরে গৃহীত হবে। আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আবার কথা হবে আগামি সপ্তাহে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।
সার্বিক সম্পাদনা : ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী
লেখা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: শান্তা মারিয়া
কণ্ঠ: শান্তা মারিয়া, শুভ আনোয়ার, রওজায়ে জাবিদা ঐশী
অডিও সম্পাদনা: রফিক বিপুল