আকাশ ছুঁতে চাই ৪৪
সু এর মতে, এলাকার অনেক নারীর জীবনেই এখন সুবাতাস বইছে গোলাপ চাষের কারণে।
ছোট্ট মেয়ে নিউ নিউ
ছোট্ট মেয়ে নিউ নিউ। তার বাবা মা দুজনেই শ্রবণ প্রতিবন্ধী। নিউ নিউ ছয় বছর বয়সেই বাবা মায়ের কাজে সহায়তা করছে । সে তার বাবা মায়ের ফুট স্পার দোকানে অনুবাদকের কাজ করে। সে সাইন ল্যাংগুয়েজ থেকে চীনা ভাষায় গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেয় সবকিছু। চলুন শোনা যাক নিউ নিউর গল্প।
মাত্র ছয় বছর বয়সেই বাবা মায়ের প্রতিষ্ঠানে সহায়তা দিচ্ছে হু ইয়ুনচিয়া। ছোট্ট এই মেয়েটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী ছেংতু শহরের বাসিন্দা।তার ডাক নাম নিউ নিউ।
হু ইয়ুনচিয়ার বাবা হু ইয়ং একজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। শৈশবে তীব্র জ্বরের পর কথা বলা ও কানে শোনার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় তার। অনেক কষ্ট করে তিনি লেখাপড়া শিখেছেন। তবে প্রতিবন্ধিতার জন্য ভালো চাকরি পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। চাকরি পেলেও বেশিদিন সেখানে কাজ করা হয়ে ওঠে না। তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন।
তিনি ফুট স্পা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০১৯ সালে ছেংতু শহরে একটি দোকান করেন।
নিউ নিউর মাও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তিনি তার স্বামীকে ফুট স্পা দোকানের কাজে সাহায্য করেন। সৌভাগ্যক্রমে নিউ নিউ এর কোন প্রতিবন্ধিতা নেই। সে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলতে পারে, শুনতেও পারে। বাবা মায়ের কাছ থেকে দুই বছর বয়সে সে সাইন ল্যাংগুয়েজ শেখে।
চার বছর বয়স থেকে বাবা মাকে সাহায্য করা শুরু করে। নিউ নিউ দোকানে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সে বাবা মায়ের বক্তব্য অনুবাদ করে গ্রাহকদের জানিয়ে দেয়।
এই দোকানে হু দুজন কর্মচারী রেখেছেন। তারাও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। নিজে প্রতিবন্ধী বলেই অন্য প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হু তাদের চাকরি দিয়েছেন। সকলের কাজেই সহায়তা করে নিউ নিউ। সে তার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষা শেষ করে এখন প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে। স্কুল ছুটি হলেই দোকানে চলে আসে নিউ নিউ।
ফুট স্পার গ্রাহকরা নিউ নিউকে খুব পছন্দ করে। ফুটফুটে মেয়েটি যখন তার সুরেলা কণ্ঠে কাউকে বলে বাবা আপনাকে এই মলমটা বাড়ি গিয়ে ব্যবহার করতে বলেছেন কিংবা আগামিকাল দোকানে একটা বিশেষ অফার শুরু হবে তখন গ্রাহকরা খুব মজা পান।
অবশ্য নিউ নিউর বাবা মনে করেন এখন মেয়ে বড় হচ্ছে। প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়ার চাপ কিন্ডারগার্টেনের চেয়ে অনেক বেশি। এখন সে দোকানে যত কম সময় দেয় ততোই ভালো। এখন তার মন দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে।
অন্যদিকে নিউ নিউ মনে করে বড় হয়ে সে বাবা মাকে আরও অনেক বেশি সহায়তা করবে। এই ব্যবসাকে অনেক বড় করে গড়ে তুলবে।
প্রতিবেদন: শান্তা মারিয়া
সম্পাদনা: রহমান
সুপ্রিয় শ্রোতা আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পৌছে গেছি আমরা।
অনুষ্ঠানটি কেমন লাগছে সে বিষয়ে জানাতে পারেন আমাদের কাছে। আপনাদের যে কোন পরামর্শ, মতামত সাদরে গৃহীত হবে। আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আবার কথা হবে আগামি সপ্তাহে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।
সার্বিক সম্পাদনা : ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী
লেখা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: শান্তা মারিয়া
কণ্ঠ: শান্তা মারিয়া, শুভ আনোয়ার, আফরিন মিম
অডিও সম্পাদনা: রফিক বিপুল