আকাশ ছুঁতে চাই ৪১
১. ঐতিহ্যের আলোয় আলোকিত নারী
২. চীনের জন্য ভালোবাসা
৩. সুই সুতায় সাফল্যের গল্প
নারী ও শিশু বিষয়ক অনুষ্ঠান আকাশ ছুঁতে চাই থেকে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আমাদের অনুষ্ঠানে আমরা কথা বলি নারী ও শিশুর অগ্রযাত্রা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সাফল্য, সংকট সম্ভাবনা নিয়ে। আমরা কথা বলি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার নিয়ে।
ঐতিহ্যের আলোয় আলোকিত নারী
একজন নারী শিল্পী লুও মিনসিন। তিনি প্রাসাদ লণ্ঠন তৈরির একজন দক্ষ শিল্পী। চীনের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদ লণ্ঠন। অতীতে শুধুমাত্র রাজদরবারেই ব্যবহারের অনুমতি ছিল। এখন অবশ্য শিল্পরসিক যে কোন ব্যক্তিই এটা ব্যবহার করতে পারেন। কুয়াংতোং প্রদেশের এক শিল্পী এই প্রাসাদ লণ্ঠনের উপরে পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে সৃষ্টি করছেন অনন্য শিল্প। ক্যান্টনিজ স্টাইলের প্রাসাদ লণ্ঠন তৈরি করেন তিনি। লণ্ঠনের উপর তার তুলির জাদুতে ফুটিয়ে তোলেন অসাধারণ শিল্পকর্ম। শোনা যাক তার গল্প।
তুলির টানে অপূর্ব সুন্দর ছবি ফুটে উঠছে কাচের উপর। এই ছবি শোভা পাচ্ছে প্রাসাদ লণ্ঠনে।
চীনের এক অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রাসাদ লণ্ঠন। লণ্ঠনের উপর ছবি আঁকছেন লুও মিনসিন। তিনি একজন নারী শিল্পী। ক্যান্টনিজ স্টাইলের প্রাসাদ লণ্ঠন তৈরির শিল্পী তিনি। তিনি লণ্ঠনের উপর ফুটিয়ে তোলেন অসাধারণ সুন্দর শিল্পকর্ম। একসময় ক্যান্টোনিজ স্টাইলের এই লণ্ঠন জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল। কিন্তু লুও মিনসিনের বাবা নিজের কারখানা স্থাপন করে এর ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তার সুযোগ্য কন্যা হিসেবে লুও এই লণ্ঠনের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তোলেন।
লুও মিনসিন বলেন ‘ ঊনিশশ আশির দশকে চীনের অনেক লণ্ঠন কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। কারণ তখন পশ্চিমা ধরনের লাইটগুলোর জনপ্রিয়তাই বেশি ছিল। নব্বই দশকে কুয়াংচৌর একটি বিখ্যাত লণ্ঠন কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময়ে আমার বাবা তার নিজের লণ্ঠন কোম্পানি শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি খেয়াল করেছিলেন যে ছোটবেলা থেকেই আমি পেইন্টিংয়ে খুব ভালো। তিনি আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই আমি তার পথ অনুসরণ করে এই পর্যন্ত এসেছি।’
অতীতে প্রাসাদ লণ্ঠন শুধুমাত্র রাজদরবারে ও রাজপরিবারে ব্যবহারের অনুমতি ছিল। পরবর্তিকালে সাধারণ মানুষ এটা ব্যবহার করতে থাকেন। একসময়ে পাশ্চাত্যের প্রভাবে জনপ্রিয়তা কমে গেলেও পরবর্তিকালে আবার এটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়।