আকাশ ছুঁতে চাই ৩০
ড্রোলমার এই দোকান অবস্থিত দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের তিব্বতি স্বায়ত্তশাসিত গাঞ্জি প্রিফেকচারের এডামেনবা গ্রামে। একসময় চারণভূমির জন্য বিখ্যাত ছিল এই গ্রাম। যার ফলে বেশিরভাগ মানুষের পেশা ছিল পশুপালন। কিন্তু এসব পশুর দুধ, তৈরিকৃত দুগ্ধজাত পণ্য বাইরে বাজারজাতকরণের ছিল না সুব্যবস্থা। কিন্তু এখন পাল্টেছে চিত্র। গ্রামের রাস্তাঘাট, বিভিন্ন শিল্প কারখানা পালটে দিয়েছে গ্রামবাসীর ভাগ্য।
ড্রোলমার ছোট্ট দোকান এখন অনেক পথচারী ও গ্রামের বাসিন্দাদের পছন্দের শপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রতিদিনই অনেক পর্যটক ভিড় করে এখানে। এদিকে ড্রোলমার আয়ও বেড়েছে অনেকগুণ। ড্রোলমা বলেন,- "ব্যবসা ভালো হলে আমি দিনে ১০০ ইউয়ান পর্যন্ত আয় করতে পারি। আমি গ্রামের বাইরে যে কাজ করতাম তার চেয়ে এই কাজ অনেক ভালো ।
ড্রোলমা এখন এই গ্রামের উজ্জ্বল উদাহরণ । তাকে দেখে এখন অনেক তরুণ-তরুণী ফিরে আসছেন গ্রামে। শুরু করেছেন ব্যবসা। এদিকে এই গ্রামের ট্রেন্ডি স্টাইলের ঘর, দর্শনীয় স্থান আকৃষ্ট করছে পর্যটকদের। ফলে গ্রামীণ পর্যটনও হচ্ছে চাঙ্গা।
ড্রোলমা বলেন, ‘আমাদের গ্রামে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। আমাদের চারণ ভূমিকে নৈসর্গিক স্থানে পরিণত করা হয়েছে। আর স্থানীয়রা তৈরি করছেন তিব্বতীয় স্টাইলে বিভিন্ন গেস্ট হাউজ। ফলে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসছেন এখানে " ।
এই গ্রামে স্থাপন করা হয়েছে একটি দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র। যার ফলে এখন গ্রামবাসীরা খুব সহজেই চমরী গরুর দুধ, তৈরি মাখন বিক্রি করতে পারছেন । ফলে এই মিল্ক স্টেশন তাদের জীবনকে অনেক সহজ ও উন্নত করেছে বলছেন এই গ্রামের বাসিন্দা তাশি।
তিনি বলেন,"অতীতে, আমরা গ্রীষ্মের সময়টায় শুধু পনির তৈরি করতে পারতাম। এখন পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় চমরী গরুর দুধ সরাসরি দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে পারছি। এতে আমাদের আয় বেড়েছে।
দিন যত যাচ্ছে আধুনিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এই গ্রাম। গ্রামটা ধীরে ধীরে বদলে যাওয়ায় খুশি ড্রোলমা ও গ্রামবাসী।
প্রতিবেদন আফরিন মিম
সম্পাদনা: শান্তা মারিয়া
সুপ্রিয় শ্রোতা আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পৌছে গেছি আমরা।
অনুষ্ঠানটি কেমন লাগছে সে বিষয়ে জানাতে পারেন আমাদের কাছে। আপনাদের যে কোন পরামর্শ, মতামত সাদরে গৃহীত হবে। আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আবার কথা হবে আগামি সপ্তাহে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।
সার্বিক সম্পাদনা : ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী
লেখা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: শান্তা মারিয়া,
অডিও এডিটিং: রফিক বিপুল