আকাশ ছুঁতে চাই পর্ব ৯০
এ পর্বে যা থাকছে
১. আয়কর আইনজীবীর পেশা নারীর জন্য চ্যালেঞ্জিং
২. একদশকে চীনে নারীর অগ্রগতি
৩. চুয়াং জাতির সাহসী নারী লিউ সানচিয়ে
৩ মানাসলু অভিযানে এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার
৪. ব্যাডমিন্টন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নারীদের ডাবলসের শিরোপা জিতেছে চীন
৫. নারীদের বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা প্রদানে বয়সসীমা বাড়িয়েছে চীন
চীন আন্তর্জাতিক বেতারের ঢাকা স্টেশন থেকে প্রচারিত আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি ভালো আছেন। আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানে আমরা সবসময় কথা বলি নারীর সাফল্য, সংকট, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে।
আয়কর আইনজীবীর পেশা নারীর জন্য চ্যালেঞ্জিং
বাংলাদেশে ইনকাম ট্যাক্স ল’ইয়ারের পেশায় খুব কম নারীই কাজ করছেন। এমন একটি ব্যতিক্রমী পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা কথা বলবো আয়কর আইনজীবী, সমাজকর্মী ও লেখক ইসমত শিল্পীর সঙ্গে। আমাদের অনুষ্ঠানে তাকে স্বাগত জানাই।
সাক্ষাৎকার
ইসমত শিল্পী তার পেশাগত জীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। পরে বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থা এবং মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজের পর তিনি আইনজীবী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এলএলবি পরীক্ষায় পাশ করে তিনি বার কাউন্সিলের সদস্য হন। এরপর আয়কর আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই পেশায় নারীর সংখ্যা বাংলাদেশে খুবই কম। বলতে গেলে হাতে গোনা। অনেকেই মনে করেছে ইসমত এই পেশায় সফল হতে পারবে না। কিন্তু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই এগিয়ে গেছেন তিনি। সফলও হয়েছেন। তিনি মনে করেন নারীদের মধ্যে যারা উদ্যোক্তা বা চাকরিজীবী তাদের আয়কর বিষযে সচেতন হওয়া দরকার। কারণ অনেক সময় নারীরা এ বিষয়টিকে ঝামেলা বলে মনে করেন। অনেকের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। এই ভীতি দূর করতে দরকার সচেতনতামূলক প্রচার।
ইসমত শিল্পী একজন সমাজকর্মী। তিনি ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের নিয়ে অনেক সমাজসেবামূলক কাজ করেছেন। তিনি মনে করেন ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি সহায়তাও দরকার। ইসমত শিল্পী নান্দিক নামে একটি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনি সাহিত্যচর্চাও করছেন দীর্ঘদিন ধরে। কবিতা লিখছেন। তিনি তার বই ‘বিকল্প ক্ষত’ থেকে একটি কবিতা পড়ে শোনান।
একদশকে চীনে নারীর অগ্রগতি
চীনে এক দশকে নারী অধিকারের অগ্রগতির ফলে নারীরা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান চীনা নারীরা তাদের সম্ভাবনা এবং লক্ষ্য পূরণ করতে এবং সমাজে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম। বিস্তারিত প্রতিবেদনে।
পাবলিক স্পেসে শিশু যত্নের কক্ষ বা চাইল্ড কেয়ার রুম যেখানে মায়েরা আরামে যত্ন নিতে পারেন তাদের সন্তানদের।
দক্ষিণ চীনের কুয়াংতং প্রদেশের কুয়াংচৌ শহরে খোলা হয়েছে এসব শিশু যত্নের কক্ষ।
শুধু কুয়াংতং নয়, শিশুদের জন্য চীনের সর্বত্রই রয়েছে এমন ব্যবহার-বান্ধব এবং আরামদায়ক ব্যবস্থা। কারণ দেশটির সংশোধিত নতুন আইনে পাবলিক স্পেসে শিশু যত্নের সুবিধার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
চীনের নারীরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ও সংস্কারে জোর ভূমিকা পালন করছে। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি লক্ষ্য পূরণে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠেছে।
২০১২ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিসি’র ১৮ তম জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে নারী অধিকার ইস্যুটি এতোই গুরুত্ব পায় যে, চীনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে নারীরা।
যেখানে গত দশ বছর ধরে সংশোধন ও নতুন আইন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেখানে চাইল্ড কেয়ার রুম নারী ও শিশুদের সুরক্ষার একটি অংশ মাত্র।