আকাশ ছুঁতে চাই পর্ব ৬৯
আকাশ ছুঁতে চাই পর্ব ৬৯
বৈশাখের বিশেষ অনুষ্ঠান
১. লোকজ ঐতিহ্য রক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংস্কৃতি চর্চা প্রয়োজন: অধ্যাপক তালাত সুলতানা
২. রংতুলির আঁচড়ে রবীন্দ্রনাথ
৩. সিনচিয়াংয়ের সুখী শিক্ষিকা
৪. লোকজ ঐতিহ্য ধারণ করে বাংলার নারী
শুভ নববর্ষ। চীন আন্তর্জাতিক বেতারের ঢাকা স্টেশন থেকে প্রচারিত আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানে সবাইকে জানাই সাদর আমন্ত্রণ। আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলাদেশের সকল ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত জাতীয় উৎসব। এসো হে বৈশাখ এসো এসো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানের সঙ্গে বাংলা ১৪২৯ সালকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পহেলা বৈশাখ আমাদের একান্ত আপন লোকজ উৎসব। এই উৎসবের বিভিন্ন দিক নিয়ে আজ আমরা কথা বলবো বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক তালাত সুলতানার সঙ্গে তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ। আমাদের অনুষ্ঠানে তাকে স্বাগত জানাই।
লোকজ ঐতিহ্য রক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংস্কৃতি চর্চা প্রয়োজন: অধ্যাপক তালাত সুলতানা
সাক্ষাৎকার:
সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তালাত সুলতানা বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংস্কৃতি চর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ‘বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য রক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংস্কৃতি চর্চা প্রয়োজন’ বলেন তিনি। সরকারি তিতুমীর কলেজে অনেকগুলো সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে যেগুলোতে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরা অংশ নিচ্ছে। তালাত সুলতানা মনে করেন লোকজ ঐতিহ্য ধরে রাখায় নারীদের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। নারীরা তাদের পোশাকে এবং সাজসজ্জায় আজও বাঙালিয়ানা ধরে রেখেছে পরম মমতায়। পহেলা বৈশাখ আজকাল প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদযাপিত হয়। সরকারি তিতুমীর কলেজও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানে পিঠাপুলি, আলপনা আঁকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে বর্ষবরণের আয়োজন চলে বলে জানান তিনি। তালাত সুলতানা একজন সংগীতশিল্পীও। তিনি নববর্ষ উপলক্ষে শ্রোতাদের জন্য দুটি গান পরিবেশন করেন। এসো হে বৈশাখ এসো এসো এবং নব আনন্দে জাগো গানদুটি পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি চীন আন্তর্জাতিক বেতারের শ্রোতাদের বাংলা নতুন বছরের শুভকামনা জানান।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে খুব পছন্দ করেন চীনা নাগরিক বি সিয়াও। তাঁর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ‘বেগুনি তুষার’। এ নামে চীনা এই নাগরিক রবীন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করে চীনা ভাষায় একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। কখনও কখনও মানুষকে জীবনের প্রয়োজনে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে হয়। চিন্তাভাবনা করতে হয় নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে সিয়াও এমনই একজন মানুষ। সিয়াও এর কথা শুনবো প্রতিবেদনে।
রংতুলির আঁচড়ে রবীন্দ্রনাথ
‘বেগুনি তুষার’গ্রন্থটির লেখিকা একজন চীনা নাগরিক বি সিয়াও।কর্মসূত্রে তার স্বামীর সঙ্গে ভারতের কলকাতায় কয়েক বছর থাকার সুযোগ হয় তার। সেখানেই তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনার সঙ্গে প্রথম পরিচিত হন। এরপর থেকে রবীন্দ্রনাথের লেখা তাকে ভীষণ টানতে শুরু করে। তিনি বলেন, ‘কবিগুরুর কবিতার আধ্যাত্মিকতা ও প্রকৃতির সঙ্গে মেলবন্ধনের কারণেই মূলত আমার কাছে তাঁর রচনা খুব উপভোগ্য মনে হয়।’