মেড ইন চায়না : পর্ব-২৩: অ্যাবাকাস
· চীনাদের সঙ্গে রোমানদের ছিল ব্যবসায়িক সম্পর্ক। আর সেই সূত্রে দুটি সাম্রাজ্যের অ্যাবাকাসেও পাওয়া গেছে যথেষ্ট মিল।
অ্যাবাকাস একটি নকশায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন সময়ে চীনের গবেষকরা নানা ধরনের কাজে আবিষ্কার করেছেন ভিন্ন ভিন্ন নকশার অ্যাবাকাস। বড় আকারের বেশি বেশি দণ্ড ও চাকতিযুক্ত অ্যাবাকাসে সহজে করা যেন গুণ-ভাগের কাজ। ২০০ সালের দিকে চুশুয়ান নামের এক ধরনের অ্যাবাকাস ভিত্তিক গণনা প্রক্রিয়া চালু হয়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ শতকের দিকে আসে আরও উন্নত সুয়ানপান তথা অ্যাবাকাস। সপ্তদশ শতকের নামকরা চীনা জ্যোতির্বিদ কুয়ো শৌচিং চুশুয়ান পদ্ধতিতে গণনা করেছেন এক বছরের দিনের সংখ্যা। তার তৈরি অ্যাবাকাসে দিনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৩৬৫ দশমিক ২৪২৫ দিনে। আর এখনকার আধুনিক যন্ত্রপাতিতে গুনে দেখা গেল ৩৬৫ দশমিক ২৪২২ দিনে হয় এক বছর।
চীন থেকে ১৪শ সালের দিকে জাপান ও কোরিয়া থেকে যায় অ্যাবাকাস। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে রাশিয়াতেও ব্যবহৃত হতো চীনা অ্যাবাকাসের রুশ সংস্করণ স্কটি। তবে এখন সারাবিশ্বেই চালু আছে নানা ধরনের অ্যাবাকাস। যন্ত্রটির ইতিহাস ও পুরনো সংস্করণগুলো দেখতে চাইলে যেতে হবে চীনের চিয়াংশু প্রদেশের নানথোং শহরের অ্যাবাকাস জাদুঘরে।
অনুষ্ঠানের এই পর্যায়ে চীনের আবিষ্কার অ্যাবাকাস নিয়ে শোনা যাক একটি অন্যরকম গল্প
বিশ্বখ্যাত নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান তার দ্রুত গণনা দক্ষতার জন্যও বিখ্যাত ছিলেন। ব্রাজিলে তার সঙ্গে একবার এক জাপানি অ্যাবাকাস বিশেষজ্ঞের দেখা হয়। ওই অ্যাবাকাস বিশারদ ফাইনম্যানকে ছুড়ে দেন চ্যালেঞ্জ। প্রতিযোগিতার বিষয় হলো—কে কত দ্রুত গণনা করতে পারবে। ফাইনম্যানের হাতে কাগজ কলম, আর বিপরীতে আছে অ্যাবাকাস। দেখা গেল যোগ ও গুণের ক্ষেত্রে ফাইনম্যানের আগেই গণনা শেষ করেছেন সেই জাপানি অ্যাবাকাস বিশারদ। ভাগের অংক করার ক্ষেত্রে ফাইনম্যান জিতে গেলেও ঘনকের মান ব্যবহারেও দক্ষতা দেখিয়েছিল চীনের তৈরি অ্যাবাকাস।