মেড ইন চায়না : পর্ব-১৮ : ম্যালেরিয়ার ওষুধ আর্টিমিসিনিন
চীনের পাঁচ শতাধিক বিজ্ঞানী নিয়ে গঠিত হলো একটি গোপন প্রকল্প। প্রকল্পের নাম দেওয়া হলো ‘প্রজেক্ট ৫২৩’। কারণ, গবেষণার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৬৭ সালের মে মাসের ২৩ তারিখে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে উৎসাহ পাওয়ার পর কোমর বেঁধে লাগলেন চীনা বিজ্ঞানীরা। একটার পর একটা রাসায়নিক যৌগ তৈরি করছেন ও সেগুলোর পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করলেন তারা। কিন্তু কোনোটাতেই মিললো না কাঙ্ক্ষিত ফল। ওই সময় পিকিং ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা ৩৯ বছর বয়সী চীনা নারী চিকিৎসাবিজ্ঞানী থু ইউইউ ভাবলেন, ভিন্ন কিছু করে দেখা যাক।
ভিন্ন কিছু করতে গিয়েই ইউইউ গবেষণা শুরু করেন চীনের ঐতিহ্যবাহী ভেষজ ওষুধ বা টিসিএম নিয়ে। একের পর এক তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ করতে শুরু করেন ইউইউ। এক পর্যায়ে তিনি খুঁজে পান প্রায় দুই হাজার বছর আগে লেখা প্রাচীন চীনা চিকিৎসাশাস্ত্রের একটি বই। এ ছাড়া তিনি সংগ্রহ করেন ৬৪০টি প্রাচীন চীনা প্রেসক্রিপশন। সেগুলো নিয়ে গবেষণায় কেটে যায় চারটি বছর। ১৯৭১ সালে থু ইউইউ ও তার দল প্রায় দুই হাজার ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধের রেসিপি অনুসরণ করে ২০০টি ভেষজ থেকে ৩৮০ ধরনের নির্যাস তৈরি করেন।
এর মধ্যে ইউইউ দেখলেন হাজার বছর আগে চীনে একটি গাছের নির্যাস থেকে তৈরি করা হতো জ্বর নিরাময়ের ওষুধ। গাছটির আঞ্চলিক নাম ছিংহাও।
ইউইউ দেখলেন ছিংহাওয়ের নির্যাসে আছে এমন একটি উপাদান যা মূলত জীবাণুর বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করতে পারছে। তিনি উঠেপড়ে লাগলেন ওই নির্যাসে কী কী উপাদান আছে, সেটা জানার জন্য। দীর্ঘদিন কয়েকশ নমুনা পরীক্ষা করে অবশেষে ছিংহাওয়ের নির্যাস থেকে একটি কার্যকর রাসায়নিক যৌগ আলাদা করেন থু ইউইউ। তিনি এর নাম দেন, ছিংহাওসু, যার অর্থ হলো ছিংহাও গাছ থেকে পাওয়া উপাদান। আর সেই ছিংহাওসুকেই পরে ইংরেজিতে নাম দেওয়া হয় আর্টিমিসিনিন।