মেড ইন চায়না: পর্ব-১২: কম্পাস
কম্পাস নিয়ে কিছু তথ্য জানা যাক এবার
যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই দিক বোঝা যায় কম্পাস দিয়ে। কারণ কম্পাস কাজ করে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এবং চুম্বকত্বের নীতির ওপর ভিত্তি করে।
কম্পাসের উপরে থাকে ঘড়ির ডায়ালের মতো একটা অংশ থাকে। মাঝে থাকে একটি কাঁটা। কাঁটার মাথাটিকে বলা হয় ‘পয়েন্ট’। এই পয়েন্টই নির্দেশ করে উত্তর ও দক্ষিণ দিক।
কম্পাসের গোলাকৃতি কাঠামোর ব্যাসার্ধটিকে বলে কম্পাস রোজ। সঠিক দিক বোঝার জন্য কম্পাস রোজকে ভূমির সমান্তরালে রাখতে হয়।
চীনে হান আমলে প্রথম যে কম্পাসের প্রচলন শুরু হয় ওটাকে বলা হতো দক্ষিণমুখী মাছ। তবে শুরুর দিকে চীনে কম্পাস দিয়ে নেভিগেশনের কাজ করা হতো না। ওই আমলে চীনে কম্পাস দিয়ে জ্যোতিষীরা ভাগ্য গণনা করতেন।
কম্পাসে উত্তর দিককে শূন্য ডিগ্রি ধরা হয়। পূর্ব হলো ৯০, দক্ষিণ ১৮০ এবং পশ্চিম দিক হলো ২৭০ ডিগ্রি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, জার্মান ক্যাম্পগুলোতে বন্দিদের পালাতে সাহায্য করার জন্য বোতাম এবং রেজার ব্লেডের আকারে যুদ্ধবন্দিদের কাছে পাচার করা হতো কম্পাস।
কম্পাস কী করে কাজ করে এই ফাঁকে জেনে রাখি সে তথ্য
আমাদের পৃথিবীটাই কিন্তু আস্ত একটা চুম্বক। পৃথিবীর পৃষ্ঠের গভীরে মূল অংশে আছে প্রচুর লোহা ও নিকেল। কেন্দ্রের বাইরের অংশ হল তরল ধাতু যা ভেতরের শক্ত ও কঠিন কেন্দ্রের চারপাশে ঘোরে। এ গতির কারণে পৃথিবীর চারপাশে একটি চুম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। আর বাদবাকি সব চুম্বকের মতো, পৃথিবীর ওই চৌম্বকক্ষেত্রেরও দুটি মেরু রয়েছে। আর কম্পাসের কাঁটাটি যেহেতু নিজেও একটি চুম্বক তাই পৃথিবীর চুম্বকের টানে সেটা সবসময় উত্তর-দক্ষিণ মুখ করে থাকে। তবে পৃথিবীর ওই চৌম্বক ক্ষেত্রের আকর্ষণ বল বেশ দুর্বল বলে, কম্পাসের কাঁটায় কোনো বাধা থাকলে সেটা তখন আর উত্তর-দক্ষিণে ঘুরতে পারে না। এ কারণে কাঁটাটিকে রাখতে হয় পানি বা এমন একটি কাঠামোর ওপর যাতে ওটা বাধাহীনভাবে নড়তে পারে।