মেড ইন চায়না: পর্ব-১২: কম্পাস
মেড ইন চায়নার বারোতম পর্বে সাথে আছি আমি ফয়সল আবদুল্লাহ...আজকের পর্বে থাকছে চীনের আবিষ্কার কম্পাসের কথা।
ছোট নৌকার মাঝি যখন চলে যান মাঝ সাগরে তখন চারদিকে পানি ছাড়া চোখে আর কিছুই পড়ে না। মাথার উপর সূর্য থাকলে পথ চেনা যায় সহজে। কিন্তু রাতের আকাশ যদি হয় মেঘাচ্ছন্ন তখন কী করে চেনা যাবে উত্তর দক্ষিণ? আবার গহীন জঙ্গল বা ধু ধু মরুভূমিতেই বা পথ চিনে কী করে ঘরে ফিরবে পথিক? দুই হাজার বছর আগে চীনের হান রাজবংশের মানুষেরা দিয়েছিল এ সমস্যার সমাধান। তারাই প্রথম আবিষ্কার করে কম্পাসের ব্যবহার। সেই অর্থে বলা যায় আধুনিক সভ্যতাকে আক্ষরিক অর্থেই পথ দেখিয়েছে চীন।
কম্পাস আবিষ্কার যখন হয়নি, তখন সমুদ্রে নিজের অবস্থান এবং গন্তব্য ঠিক করতে নাবিকরা ব্যবহার করতো কিছু ল্যান্ডমার্ক। আবার আকাশের তারা দেখেও তারা বুঝে নিতো নিজেদের অবস্থান। যারা নক্ষত্রের গতিবিধি বুঝতো না তারা নির্ভর করতো পাখিদের ওড়ার পথের ওপর। আবার কেউ কেউ দেখতো বাতাসের গতিপথ বা সমুদ্রের আবহাওয়া। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তাই অনেক নাবিককেই হারাতে হতো পথ।
চীনের হান রাজবংশের আমলের অন্যতম কয়েকটি আবিষ্কারের মধ্যে একটি হলো কম্পাস। খ্রিস্টপূর্ব ২০৬ সালে চীনারা কম্পাস আবিষ্কার করলেও পরবর্তীতে হাজার বছর আগের সোং রাজবংশের সময় নেভিগেশনের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে কম্পাস।
হান রাজবংশের কম্পাসগুলো তৈরি হতো লোডস্টোন দিয়ে। আমরা যাকে প্রাকৃতিক চুম্বক বলি, সেটাই হলো লোডস্টোন। সোং রাজবংশের বিশেষজ্ঞ শেন কুওর বর্ণনা অনুসারে ১০৮৮ সালের মধ্যে চীনে লোডস্টোনের সঙ্গে ধাতব সূচ ঘষে চুম্বক তৈরি করা হতো। এরপর সেটা দিয়ে কম্পাসের কাজ করা হতো।
সামুদ্রিক নেভিগেশনের জন্য চীনা অভিযাত্রীকরা চৌম্বকীয় কম্পাস যে ব্যবহার করতো, সেটার প্রাচীনতম রেকর্ড পাওয়া যায় চু ইয়ুর লেখা পিংচো খিথান নামের একটি বইতে। বইটি লেখা হয়েছিল ১১১১ সাল থেকে ১১১৭ সাল পর্যন্ত। ওই সময় চীনা জাহাজের ক্যাপ্টেনরা রাতের বেলায় মেঘলা আকাশে দিক ঠিক রাখতে ব্যবহার করতেন সূচ ও চুম্বক দিয়ে তৈরি কম্পাস।