বাংলা

মেড ইন চায়না: পর্ব-১২: কম্পাস

CMGPublished: 2024-08-17 19:30:33
Share
Share this with Close
Messenger Pinterest LinkedIn

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে এর ভৌগলিক কাঠামোর কিছুটা অমিলের কারণে মানচিত্র অনুযায়ী পৃথিবীর উত্তর মেরু ঠিক যেখানটায় পড়েছে, কম্পাসে দেখানো উত্তর মেরু ঠিক সেখানটায় নেই। কম্পাসে দেখানো ম্যাগনেটিক উত্তর মেরুর অবস্থান মানচিত্রের উত্তর মেরু থেকে অন্তত ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

কম্পাস নিয়ে এই ফাঁকে জেনে রাখি আরও কিছু তথ্য

· দিক ঠিক রাখতে জাহাজে ব্যবহৃত কম্পাসে শুধু চারটি দিক নয়, সেই সঙ্গে থাকতো অনেকগুলো দিক নির্দেশক পয়েন্ট। পশ্চিমা দেশগুলোর কম্পাসে থাকতো ৩২টি দিক নির্দেশক পয়েন্ট। পুবের দেশগুলোয় থাকতো ২৪টি ও ৪৮টি পয়েন্ট। আরব কম্পাসেও থাকতো ৩২টি পয়েন্ট। তবে আধুনিক কম্পাসগুলোয় এ ধরনের পয়েন্টের পরিবর্তে রাখা হয় ডিগ্রি।

· প্রথম দিকে যে কম্পাসটা বেশি প্রচলিত ছিল তাতে, চুম্বকীয় সূচটা যেন বাধাহীনভাবে ঘুরতে পারে সেজন্য ওটাকে পানির মধ্যে ভাসিয়ে রাখা হতো। এ কারণে ওটাকে বলা হতো ওয়েট কম্পাস তথা ভেজা কম্পাস। তবে ১১৫০ থেকে ১২৫০ সালের সময় চীনা নাবিকরা ব্যবহার করতেন ড্রাই কম্পাস বা শুকনো কম্পাস। কম্পাসটির কাঠামো ছিল অনেকটা কচ্ছপের মতো। তিনটি গোলাকার গিমবালের মধ্যে বসানো হতো ওই কম্পাসের কাঁটা। এতেও কাঁটাটি ঘুরতে পারতো সাচ্ছন্দ্যে।

· ১৪৯২ সালে ইতালীয় অভিযাত্রীক ক্রিস্টোফার কলম্বাস যখন আমেরিকা আবিষ্কার করেন, তখন তার জাহাজে ছিল বিশেষ ম্যারিনারস কম্পাস। নানা মাপজোকওয়ালা ওই কম্পাসটিও ১০৫০ সালের দিকে তৈরি করেছিলেন চীনা বিজ্ঞানীরা।

প্রাচীন চীনের কিছু লিখিত রেকর্ডে উল্লেখ আছে, নেভিগেশনের কাজে লোডস্টোনের তৈরি কম্পাসের ব্যবহার শুরু হয় ৮৫০ সালের দিকে। আর চীন থেকে ইউরোপে কম্পাসের যাত্রা শুরু হয় ১১৯০ সালের দিকে। মুসলিম বিশ্বে কম্পাসের ব্যবহার শুরু হয় ১২৩২ সালে।

কিছু ইতিহাসবিদের মতে আরবরাই প্রথম চীন থেকে কম্পাস নিয়ে গিয়েছিল ইউরোপে। আবার কারও মতে, ভারত মহাসাগরের মাধ্যমে চীন থেকে ইউরোপ এবং পরে ইসলামি বিশ্বে পৌঁছায় কম্পাস প্রযুক্তি। তবে যেভাবেই যেখানে যাক না কেন, কম্পাস দিয়ে বিশ্বকে পথ চেনানোর আসল কাজটা করে গেছে চীন।

গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: ফয়সল আবদুল্লাহ

অডিও সম্পাদনা: নাজমুল হক রাইয়ান

সার্বিক তত্ত্বাবধান: ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী

首页上一页123 3

Share this story on

Messenger Pinterest LinkedIn