ভেনিস থেকে বেইজিং: মার্কো পোলোর যাত্রাপথে ইতালিয় রাইডার
১ জুলাই ফিওরিন তাঁর ভ্রমণের ডায়রিতে লিখেছিলেন, এখানে বিখ্যাত ‘ফ্লেমিং মাউন্টেন’ আছে, যা খুবই মনোমুগ্ধকর। একপাশে অত্যন্ত শুষ্ক শিখা পর্বত, এবং অন্য পাশে অন্তহীন আঙ্গুর বাগান। জলবায়ু শুষ্ক, তাপমাত্রার পার্থক্য বিশাল, এবং এখানে বিশ্ব-বিখ্যাত কিশমিশ উৎপন্ন হয়। ওইদিন দুপুর দেড়টায় তারা ৯৩ কিলোমিটার রাইড করে অবশেষে তাদের গন্তব্যে পৌঁছান।
প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি বাইক চালানোর সময় ভাষার প্রতিবন্ধকতাও একটি সমস্যা। এখন পর্যন্ত তারা একমাত্র চীনা ভাষায় কথা বলতে পারেন, তা হল ‘ধন্যবাদ’, ‘হ্যালো’ এবং ‘কোনও প্রয়োজন নেই’, এবং কখনও কখনও গুগোল অনুবাদের সহায়তা পাওয়াও সহজ নয়। তবে তারা চীনা জনগণের আতিথেয়তা এবং উদারতা অনুভব করেছেন পুরো যাত্রায়।
ফিওরিন মনে করেন, এটি তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, মার্কো পোলো ১৭ বছর বয়সে ভেনিস থেকে যাত্রা করেছিলেন। সেই সময়ে তিনি ভাষা সম্পর্কে খুব কমই জানতেন, কিন্তু তার আন্তরিকতা তাকে বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং রীতিনীতি বুঝতে দেয় এবং অবশেষে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের সভ্যতার বিনিময়ের বার্তাবাহক হয়ে ওঠেন।
ফিওরিন একটি উদাহরণ দিয়েছেন যে, ‘যখন স্থানীয়রা বুঝতে পারে যে, আপনি কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তারা আপনাকে একটি সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।’ একবার কানসুতে তাদের সাইকেল খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। তাই হোটেলের কর্মচারীরা প্রথমে একটি ট্যাক্সি ডাকতে সাহায্য করেছিলেন, তবে সাইকেলগুলো ধারন করতে সক্ষম নয় ট্যাক্সি। তাই তারা হোটেলের ডাইনিং কার ব্যবহার করে লাগেজ এবং সাইকেলগুলোকে কাছের স্টেশনে নিয়ে যান, ফলে তারা নির্বিঘ্নে লানচৌতে পৌঁছাতে পারেন।
ফিওরিন সেদিন তার ভ্রমণের ডায়েরিতে লিখেছিলেন, চারজন চীনা লোক সাইকেল চালানো দুই ইতালিয়কে সাহায্য করেছেন এবং আমাদের প্রতিদান প্রত্যাখ্যান করেছেন... এটি অভাবিত।