‘সর্বোত্তমকে নির্বাচন করা এবং সবচেয়ে সক্ষমকে নিয়োগ করা’ এখনও চীনের প্রতিভা নির্বাচন পদ্ধতির মূল ধারণা
এ ছাড়াও, এই সাংগঠনিক কর্মী ব্যবস্থায় সিনিয়র ক্যাডারদের পদোন্নতির আগে দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যাপক তৃণমূল প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। শুধুমাত্র বিভিন্ন পদে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করার পরেই তারা মূল নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন। কর্মজীবনের দৃষ্টিকোণ থেকে, একজন চীনা ক্যাডার যদি সিনিয়র লেভেলে উন্নীত হতে চান, তাহলে তাকে সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ, চীনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির প্রায় সকল প্রার্থীই দুই মেয়াদে প্রাদেশিক পার্টির সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেছেন বা সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে উদাহরণ হিসেবে ধরুন। তিনি লিয়াংচিয়াহ্য গ্রামের কর্মী হিসেবে শুরু করেছিলেন এবং ৩০ বছর ধরে ধাপে ধাপে তার বর্তমান অবস্থান পর্যন্ত কাজ করেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোতে প্রবেশের আগে, তিনি হ্যপেই প্রদেশের জেংদিং জেলায় পার্টি সেক্রেটারি এবং পরে ফুচিয়ান প্রদেশের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারপর তিনি চেচিয়াং প্রদেশের পার্টি কমিটির সেক্রেটারি এবং সাংহাই পৌর সরকারের পার্টি কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই অঞ্চলগুলোর অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং রীতিনীতিগুলো সব ভিন্ন এবং তাদের শাসনের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জগুলোও আলাদা। জনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে, সি চিন পিং সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার আগে, তিনি যে অঞ্চলগুলোতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ১৫কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং মোট জিডিপি ১.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে এটি ভারতের চেয়েও বেশি। এরপর জাতীয় নেতা হিসেবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নেতৃত্বের কাজের সাথে পরিচিত হতে আরও পাঁচ বছর সময় লেগেছে তার।