চীনের উত্পাদন-শিল্প ক্রমশ উন্নত হচ্ছে
চীনের উত্পাদন শিল্পের বর্ধিত-মূল্য ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করার পর, উত্পাদন শিল্পের সামগ্রিক স্কেল ধারাবাহিকভাবে ১৪ বছর বিশ্বের প্রথম স্থানে ছিল। চীন এখন “বিশ্ব কারখানা” থেকে “বিশ্ব উদ্ভাবন কেন্দ্র”-এ পরিণত হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় চীনের উত্পাদন-শিল্প উন্নততর হয়েছে; চীন উত্পাদনের ‘বড় দেশ’ থেকে উত্পাদনের ‘শক্তিশালী দেশ’ হিসেবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
চীনের তিনটি বড় এয়ারলাইনস কোম্পানিতে “সি ৯১৯ যুগ” শুরু হয়েছে; প্রথম দেশজ বড় পরিসরের ক্রুজ জাহাজ ‘অ্যাডোরা ম্যাজিক সিটি”র ব্যবসা চালু হয়েছে; ছাংএ-৬ মহাকাশযান চাঁদের অন্ধকার স্থানে অবতরণ করে, সেখান থেকে নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছে; দেশজ বৃহত্তম ব্যাসের শিল্ড টানেলিং মেশিন “চিংহুয়া”-র ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ সবকিছুই বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং চীনা উত্পাদনের “শক্তিশালী” বাস্তব শক্তি দেখিয়েছে।
৭৫ বছরের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে চীনের শিল্পে উলম্ফনমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। শিল্পের বর্ধিত-মূল্য ১৯৫২ সালের ১২ বিলিয়ন ইউয়ান থেকে ২০২৩ সালে ৩৯.৯ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে উন্নীত হয়েছে।
চীনের প্রধান শিল্পপণ্যের উত্পাদনের পরিমাণ সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ৫ শ প্রধান শিল্পপণ্যের মধ্যে চীনে উত্পাদিত হয় ৪০ শতাংশের বেশি। এক্ষেত্রে চীনের অবস্থান বিশ্বের শীর্ষে। ২০২৩ সালে চীনে গাড়ি উত্পাদিত হয় ৩.০১১ কোটি। এ খাতে চীন টানা ১৫ বছর থরে বিশ্বে প্রথম স্থানে আছে। মোবাইলফোন, মাইক্রোকম্পিউটার, রঙিন টিভি সেট, ও শিল্প রোবট উত্পাদন হয়েছে যথাক্রমে ১৫৭ কোটি, ৩৩ কোটি, ১৯ কোটি ও ৪.৩ লাখ সেট। প্রতিটি ক্ষেত্রে চীনের অবস্থান বিশ্বের শীর্ষে।
চীনা উত্পাদন শিল্প দ্রুত উন্নত হচ্ছে। উত্পাদিত পণ্যের সরবরাহ-সামর্থ্যও স্পষ্টভাবে বেড়েছে। পানির নিচের রোবট ও ট্রেনসহ প্রযুক্তি এবং চৌম্বকীয় অনুরণন ও অতিস্বনক ইমেজের মতো উচ্চ প্রান্ত মেডিকেল ইমেজিং সরঞ্জাম আন্তর্জাতিক নেতৃত্বাধীন মানে আছে। টানা ১৪ বছর ধরে চীন জাহাজ নির্মাণ সমাপ্তি এবং হ্যান্ড অর্ডার ভলিউমের দিক দিয়ে বিশ্বে প্রথম স্থানে আছে। জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজারের ৫০ শতাংশের বেশি চীনের দখলে আছে। চীন বিশ্বের “জাহাজ কারখানা”-য় পরিণত হচ্ছে।