বাংলা

আকাশ ছুঁতে চাই ৭৯

CMGPublished: 2024-07-18 17:38:56
Share
Share this with Close
Messenger Pinterest LinkedIn

চেন লিচুন মনে করেন তার এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা। তিনি জাতীয় ঐতিহ্যকে পৌছে দিতে চান তরুণ প্রজন্মের কাছে। তিনি প্রাচীন চীনের পোশাক পরেন, সেসময়ের বীরদের কাহিনী তুলে ধরেন নতুন প্রজন্মের কাছে।

প্রতিবেদন ও কণ্ঠ: শান্তা মারিয়া

সম্পাদনা ফয়সল আবদুল্লাহ

টিসিএম প্র্যাকটিস করে সাফল্য পেয়েছেন কাজাখ নারী মইসেইয়েভা

চীনের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এদেশের লোকজ বিদ্যা, সংস্কৃতি এবং জীবনচর্চা অনুসরণ করে শুধু আজকের দিনের চীনারাই নন, বিদেশিরাও পেয়েছেন সাফল্যের গৌরব। অনেক বিদেশি নারী চীনেই বেঁধেছেন সুখের ঘর। এমনি একজন বিদেশি নারী মইসেইয়েভা নাটালিয়া যিনি চীনের নাগরিককে বিয়ে করে চীনে বাস করছেন । শুনবো তার গল্প।

কাজাখস্তানের নারী মইসেইয়েভা নাটালিয়া । তিনি বাস করেন চিয়াংসু প্রদেশের ইসিং সিটিতে। ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা পদ্ধতির একজন চিকিৎসক এবং লাইভ স্ট্রিমার হিসেবে তিনি বিপুল সংখ্যক অনুসারী পেয়েছেন। চীনের টিকটক বা দোওইন এ তার ভক্তের সংখ্যা ১.৮ মিলিয়ন।

চীনের সঙ্গে তার সম্পর্কের সূচনা ঘটে টিনএজে। নাটালিয়ার জন্ম ১৯৯২ সালে কাজাখস্তানে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। তার মায়ের অসুখ হয়। হাইপারথাইরয়েডিসমে আক্রান্ত হন তার মা। গতানুগতিক পাশ্চাত্য চিকিৎসায় তার তেমন কোন উপকার হয়নি। সেখানে একজন প্রবাসী চীনা ছিলেন। তিনি টিসিএম বা ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি জানতেন। তার চিকিৎসাতেই নাটালিয়ার মা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই থেকে চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি এবং চীনের সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হন নাটালিয়া। দিনে দিনে এই আকর্ষণ বাড়তে থাকে। হাইস্কুল পাশ করা পর তার সামনে থাকে দুটি পথ। আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অথবা চীনে টিসিএম শিক্ষা। নাটালিয়া দ্বিতীয়টি বেছে নেন। ২০১০ সালে তিনি শায়ানসি প্রদেশের রাজধানী সিআনে দুই বছর চীনা ভাষা শেখেন। তারপর সিয়ানইয়াং সিটিতে শায়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন চাইনিজ মেডিসিন বিভাগে।

তিনি আকুপাংচার ও ম্যাসেজ থেরাপি বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে কাজাখস্তানে ফিরে আসেন। তখনও কিন্তু তিনি জানতেন না তার জীবনসঙ্গীও হবেন চাইনিজ। রাশিয়াতে তিনি একটি পারিবারিক ভ্রমণে গিয়েছিলেন। মস্কোতে তার সঙ্গে দেখা হয় ইসিং থেকে আসা এক চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের। পরিচয় দ্রুতই রূপ নেয় ভালোবাসায়। এক পর্যায়ে তারা বিয়ে করে ঘর বাঁধেন চীনের চিয়াংসু প্রদেশের ইসিং শহরে। তিন সন্তানের জননী হন।

এখানে নাটালিয়া দোওইন এ একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। সেখানে তিনি নিজের ঘর গৃহস্থালির কথা বলেন, চীনের গাড়ি, ইলেকট্রনিকস নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। এখানে তিনি ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি, লাইফস্টাইল ভেষজসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলে দারুণ জনপ্রিয়তা পান। নাটালিয়া বলেন তিনি চীনের যে কোন বিষয় যেমন নতুন জ্বালানির গাড়ি বা সিনেমা নিয়ে কথা বলে অনেক সাড়া পেয়েছেন। তিনি টিসিএম বিষয়ে বলে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এবং অনেকেই তার বক্তব্য অনুসরণ করে উপকারও পেয়েছে।

নাটালিয়া তার ভাইবোনদেরও টিসিএম চর্চায় উৎসাহ দিয়েছেন। তারাও চীনে এসে টিসিএম বিষযে শিক্ষা গ্রহণ করেছে। এখন নাটালিয়ার ভাইবোনেরা কাজাখস্তানে টিসিএম ক্লিনিক খুলেছে।

চীনকে কেন্দ্র করে নাটালিয়া গড়ে তুলেছেন তার সুখের ভুবন।

সম্পাদনা: ফয়সল আবদুল্লাহ

কণ্ঠ: হোসনে মোবারক সৌরভ

ইতিহাস থেকে প্রেরণা নেন সংগীত তারকা লিউ লিয়ান

চীনের একজন জনপ্রিয় নারী সংগীত তারকা লিউ লিয়ান। সম্প্রতি তিনি হ্যনান জাদুঘর পরিদর্শন করে দারুণ কিছু অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।

চীনের জনপ্রিয় সংগীত তারকা ও গীতিকার লিউ লিয়ান। ৩৪ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় শিল্পী ২০১২ সালে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্কিওলজি অ্যান্ড মিউসিওলজি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন। ইতিহাসের প্রতি তার আকর্ষণ তাই বরাবরের। সম্প্রতি তিনি হ্যনান প্রদেশের রাজধানী চ্যংচৌ সিটির হ্যনান জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সেখানে তার অনন্য কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে।

তিনি প্রাচীন কিছু বাদ্যযন্ত্রের নিদর্শন দেখেছেন। কয়েকটি নিদর্শনের রেপ্লিকা বাজানোর সুযোগ পেয়েছেন, উপভোগ করেছেন কিছু পরিবেশনা।

৮৭০০ বছর আগের একটি রেড ক্রাউনড সারস পাখির ডানার হাড় থেকে বানানো একটি বাঁশি দেখে মুগ্ধ হন লিউ। এই হাড়ের বাঁশিটি হ্যনান প্রদেশের উইয়াং কাউন্টির চিয়াহু সাইট থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় পাওয়া যায়।

প্রাচীন এই বাঁশি লিউকে এত অভিভূত করে যে তিনি নতুন সৃষ্টির প্রেরণা খুঁজে পান। তিনি হুসিয়া এনসিয়েন্ট মিউজিক অর্কেস্ট্রার একটি লাইভ পারফরমেন্সেও আমন্ত্রিত হন। প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রের দশটি রেপ্লিকার সাহায্যে এই অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করা হয়। সেখানে লিউ প্রাচীন ড্রাম বাজানোরও সুযোগ পান।

নারী সংগীত তারকা লিউ বলেন, হ্যনান মিউজিয়ামে এই ট্যুর তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দিনগুলোতে। সেসময় শিক্ষকরা তাদের প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। এখন সেগুলো নিজের চোখে দেখে , হাতে নিয়ে, বাজিয়ে অভিভূত হয়েছেন লিউ। তিনি মনে করেন ইতিহাস সবসময়েই একজন সৃজনশীল মানুষের মধ্যে অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করে।

প্রতিবেদন: শান্তা মারিয়া

সম্পাদনা ও কণ্ঠ: আফরিন মিম

সুপ্রিয় শ্রোতা। আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পৌছে গেছি আমরা। সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আবার কথা হবে আগামি সপ্তাহে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।

সার্বিক সম্পাদনা : ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী

লেখা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: শান্তা মারিয়া

অডিও সম্পাদনা: হোসনে মোবারক সৌরভ

首页上一页123 3

Share this story on

Messenger Pinterest LinkedIn