আকাশ ছুঁতে চাই ৭৭
এখানকার প্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম। পার্বত্যভূমি। শহরের হাসপাতাল থেকে বহুদূরে। চাং দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে গ্রামে ঘুরে গর্ভবতী মায়েদের খোঁজ নিতেন। তাদের যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা দিতেন।
চাং যদিও পাশ্চাত্য চিকিৎসা বিদ্যা শিখেছেন তবে তার সবসময় আগ্রহ ছিল লোকজ চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে। তিনি ভোকেশনাল স্কুলে কিছুটা আকুপাংচার ও ঐতিহ্যবাহী চিনা চিকিৎসাপদ্ধতির পাঠ নিয়েছিলেন। সেই জ্ঞান থেকেই তিনি স্থানীয় কৃষকদের টিসিএম চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু করেন।
২০১৯ সালে চাং একটা ভালো সুযোগ পান। তিনি তালি প্রিফেকচারে টিসিএম ট্রেনিং প্রোগ্রামে যোগ দেন। ওই প্রশিক্ষণে বেশিরভাগই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও বড় হাসপাতালের ডাক্তাররা। তার খুব লজ্জা লাগতো। তারপরেও সব দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাটিয়ে তিনি প্রায় সন্তানের বয়সী একজন সহপাঠীর সঙ্গে পড়াশোনা করতে থাকেন। সেই সহপাঠী চাংকে অনেক সহায়তা করেন। তিনি পড়া মুখস্ত করেন এবং নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন।
এই প্রশিক্ষণে চাং অনেক কিছু জানতে পারেন এবং ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিনে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি গ্রামে ফিরে এসে তার শিক্ষা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে গ্রামবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা দিতে থাকেন।
চাং শুধু বাড়ি বাড়ি ঘুরে চিকিৎসাই দেন না তিনি তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করারও চেষ্টা করেন। কাওফা গ্রামে চারটি এথনিক জনগোষঠীর মানুষ বাস করেন। তাদের অনেকের ভাষা বেশ দুর্বোধ্য। কিন্তু চাং এই চারটি ভাষাই বোঝেন ও কথা বলতে পারেন। ফলে গ্রামবাসীরা সহজেই নিজেদের সমস্যার কথা চাংকে বলতে পারেন। চাং সাধ্যমতো তাদের সাহায্য করেন। কাউকে যদি শহরের হাসপাতালে পাঠাতে হয় সেটার ব্যবস্থা করেন।
প্রতিবেদন: শান্তা মারিয়া
সম্পাদনা: মিম
সুপ্রিয় শ্রোতা। আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পৌছে গেছি আমরা। সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আবার কথা হবে আগামি সপ্তাহে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।
সার্বিক সম্পাদনা : ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী
লেখা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: শান্তা মারিয়া
অডিও সম্পাদনা: হোসনে মোবারক সৌরভ