আকাশ ছুঁতে চাই ৭৭
২০১৮ সালে তিনি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জিং অভিযানে অংশ নেন। একটি ট্যাংকার ১ লাখ ১০ হাজার ম্যাট্রিক টন ভয়াবহ দাহ্য ঘন তেল নিয়ে আরেকটি যানের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পূর্ব চীন সাগরে ঘটনাটি ঘটে। তিনি তখন ছুটি কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে ছুটি বাতিল করে তাকে উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হয়।
এই দুর্ঘটনায় চ্যালেঞ্জ ছিল বহুমুখী। দুর্গত মানুষদের উদ্ধার করা, আগুন থেকে বাঁচানো এবং নিজেদেরও নিরাপদ রাখা। আবার তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল। তিনি এই উদ্ধার অভিযানে কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
মেরিটাইম সেফটির এই পেশায় পুরুষ প্রাধান্য রয়েছে। বলা যায় পুরোপুরি মেল ডোমিনেটেড একটি পেশা। কিন্তু এরপরও চান মনে করেন এখানে জেন্ডার কোন বাধা নয়। সাহসের সঙ্গে কাজ করা এবং নিজের পেশাকে সম্মান করাটাই সবচেয়ে জরুরি। নারীরা যত বেশি এগিয়ে আসবেন ততোবেশি প্রথাগত ধারণা ভাঙতে পারবেন। তিনি নিজে প্রমাণ করেছেন যে, একজন নারী পুরুষর সমান বা অনেক ক্ষেত্রে বেশি দক্ষ।
হংকংয়ে বাংলাদেশী নারী কর্মীদের জন্য বিশেষ আয়োজন
চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ে বাংলাদেশের নারী কর্মীদের জন্য বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ ও প্রবাস পেনশন স্কিমে রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কিত উদবুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হংকংয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি নারীদের নিয়ে এ আয়োজন করা হয়। বিস্তারিত প্রতিবেদনে।
সম্প্রতি চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি নারী কর্মীদের জন্য বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ ও ‘প্রবাস পেনশন’ স্কিমে রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কিত উদ্বুদ্ধকরণ সভার আয়োজন করে।
এ সভায় প্রায় ১২০ জন নারী কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রথম সচিব (শ্রম) জাহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল ইসরাত আরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত নারী কর্মীদের সমবেত জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে কনসাল জেনারেল কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ এবং ‘প্রবাস পেনশন’ স্কিমে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।
কনসাল জেনারেল নারী কর্মীদের জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনার পাশাপাশি কনস্যুলেট থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারী কর্মীদের কয়েকজন তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তারা প্রবাস পেনশন স্কিমে রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও সার্বজনীন পেনশন স্কিমের বিশেষ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করায় সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পেরে তারা বৈধপথে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রেরণের বিষয়েও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রতিবেদন: আফরিন মিম
সম্পাদনা: শান্তা মারিয়া
মানবসেবাই যার জীবনের লক্ষ্য
ধীরে ধীরে নিজের জীবনে উন্নতি করেছেন পাশাপাশি গ্রামবাসীকে দিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা। এমন একজন সেবাপরায়ণ নিবেদিত নারী চাং চিচুয়ান। তার জীবনের গল্প শুনবো এখন।
চাং চিচুয়ান একজন পল্লী চিকিৎসক। নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন তিনি কচ্ছপের মতো ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগিয়ে গিয়েছেন।
চাং বাস করেন ইয়ুননান প্রদেশের তালি-পাই স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারের কাওফা গ্রামে। ৫০ বছর বয়সী চাং তার হোমটাউনের এথনিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়। তিনি ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ডাক্তারি বিদ্যা অধ্যয়নের মতো তুখোড় মেধা ছিল না । সুযোগও পাননি বড় শহরে গিয়ে চিকিৎসাবিদ্যার পাঠ নেবার।
১৯৯৪ সালে তিনি নার্সিং প্রোগ্রাম পাশ করেন। প্রিফেকচার পর্যায়ের একটি ভোকেশনাল হাইস্কুল থেকে নার্সিং বিষয়ে পাশ করার পর তিনি গ্রামে ফিরে আসেন এবং পল্লী ক্লিনিকে কাজ করা শুরু করেন। আশপাশের ২০০০ বাসিন্দার জন্য সেই ক্লিনিকে মাত্র তিনজন কর্মী ছিলেন।