আকাশ ছুঁতে চাই ২৫
তিনি স্থানীয় নারীদের এমব্রয়ডারি এবং পোশাক তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেন। গড়ে তোলেন একটা কর্মীদল।
ই হুয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে ২০০০ গ্রামীণ নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। তাদের আয় ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ইয়ুয়ানে পৌছেছে।
সরকারি সহায়তা ও স্বীকৃতি মিলেছে। তিনি ইতালির মিলানে মিয়াও এমব্রয়ডারির প্রদর্শনী করেছেন।
এখন ই হুয়া এবং তার প্রতিষ্ঠান একটি বড় সাফল্যের প্রতীক। মিয়াও এমব্রয়ডারিযুক্ত পোশাকই শুধু নয়, ব্যাগ বেডকভারসহ আরও অনেক পণ্য তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি মিয়াও সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষ্ঠানও আয়োজন করছেন তারা। ফলে এই গ্রামে স্থানীয় পর্যটন শিল্প চাঙা হয়েছে।
ই বলেন, জীবনে আপনি অনেককিছুই করতে পারেন। তবে অবৈষয়িক সংস্কৃতিকে রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে গৌরবের। এই কাজ করার মাধ্যমে মিয়াও এমব্রয়ডারির মতো একটি বিস্ময়কর সংস্কৃতি রক্ষা পাচ্ছে পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যটন বিৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন সম্ভব হচ্ছে।
তরুণী ই হুয়া নিজের স্বপ্নকে যেমন বুনন করেছেন তেমনি গ্রামের অনেক নারী তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খুঁজে পেয়েছেন স্বপ্নের ঠিকানা।
সম্পাদনা রহমান
প্যারেনটিং বিষয়ে বিশেষ কর্মশালা
শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য চাই প্যারেনটিং বা অভিভাবকতার সঠিক জ্ঞান। শুধু মা নয়, বাবা এবং অন্য কেয়ার গিভারদেরও জানা দরকার শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও তথ্য।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এবং চায়না ন্যাশনাল চিল্ডরেন’স সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি বেইজিংয়ে আয়োজিত হয় এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। লাইট এভরি মোমেন্ট অব চাইল্ডহুড বা শৈশবের প্রতিটি মুহূর্তকে আলোকিত করা শীর্ষক এই কর্মশালায় বাবা , মা, কেয়ারগিভারদের জানানো হয় শিশুর বিকাশ বিষয়ক সঠিক তথ্য। শিশুর সঙ্গে অভিভাবকদের দ্বিমুখী যোগাযোগ গড়ে তোলা হয়।
হবু মা বাবাকেও প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এই কর্মশালায়। প্যারেনটিং ওয়ার্কশপের মূল লক্ষ্য হলো শিশুবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা।
অদম্য চিয়াং চাং চিই
চীনের এক সাহসী তরুণী চিয়াং চাং চিই । শৈশবে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েও জীবনের পথে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন এই তরুণী। তার এই অদম্য জীবনীশক্তি দিয়ে তিনি আরও অনেক নারীর জন্য হয়ে উঠেছেন প্রেরণা। চলুন শোনা যাক এই অদম্য সাহসী নারীর গল্প।
চলতি বছর কয়েক মিলিয়ন শিক্ষার্থী চীনের কলেজ এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ভালো ফলাফল করেছেন। এই পরীক্ষার্থীদের একজন ছিলেন চিয়াং চাং চিই। তাকে প্রথমে দেখলে চমকে উঠতে হয়। কারণ তার দুটি পা নেই। শুধু শরীরে উপরের অংশ রয়েছে এই মেয়েটির। অথচ মুখে তার বিজয়ীর হাসি।
২০১০ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় দুই পা হারায় চিয়াং। সেই বয়সেই তাকে যখন অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন সে তার মাকে বলে যদি তুমি কাঁদো তাহলে আমার যন্ত্রণা বাড়বে। তুমি কেঁদোনা। অপরারেশন সফল হবে।
সত্যিই প্রাণে বেঁচে যায় চিয়াং কিন্তু হারায় দুই পা। সামনে তার অপেক্ষা করে এক কঠিন জীবন। কিন্তু অদম্য চিয়াং এই জীবন সংগ্রামকে হাসিমুখে মেনে নেয়। সে এমনকি নাচের ক্লাসেও ভর্তি হয়। দুই পা ছাড়া নাচ কিভাবে সম্ভব? ভেবে পাননা শিক্ষকরা। তবে শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানে সে নাচ শিখতে শুরু করে।