আকাশ ছুঁতে চাই ২৫
১. স্বপ্ন বুননের কারিগর ই হুয়া
২. প্যারেনটিং বিষয়ে কর্মশালা
৩. অদম্য চিয়াং চাং চিই
৪. ফিবা নারী বাস্কেটবল এশিয়া কাপ জিতে নিল চীন
নারী ও শিশু বিষয়ক অনুষ্ঠান আকাশ ছুঁতে চাই থেকে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আমাদের অনুষ্ঠানে আমরা কথা বলি নারী ও শিশুর অগ্রযাত্রা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সাফল্য, সংকট সম্ভাবনা নিয়ে। আমরা কথা বলি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার নিয়ে।
স্বপ্ন বুননের কারিগর ই হুয়া
চীনে এখন অনেক তরুণ তরুণী শহরের চাকচিক্যময় জীবনের আকর্ষণ ত্যাগ করে ফিরে যাচ্ছেন গ্রামে। গ্রাম পুনরুজ্জীবনে অংশ নিচ্ছেন তারা। এমনি একজন তরুণী ই হুয়া।
চীনের মিয়াও জাতির তরুণী ই হুয়া শুধু নিজের জীবনকেই গড়ে তোলেননি, সেই সঙ্গে গড়ে তুলেছেন নতুন গ্রামের স্বপ্ন। চলুন শোনা যাক এই তরুণীর গল্প।
মধ্য চীনের হুনান প্রদেশ। এখানে সিয়াংসি থুচিয়া ও মিয়াও স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারে অবস্থিত চিশোও সিটি। ছোট্ট একটি পাহাড়ি গ্রাম চোংহুয়াং। এখানে মিয়াও জাতির অনেক মানুষ বাস করেন। মিয়াও জাতির নারীরা বুনন শিল্পে দক্ষ। বিশেষ ধরনের এমব্রয়ডারিতে পারদর্শীরা তারা। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে তারা এই কারুশিল্প বহন করেন।
তবে অনেক তরুণতরুণী একসময় উন্নত জীবন ও জীবিকার জন্য গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেছেন। তারা হয়তো এই শিল্পের সঙ্গে সংযোগকে হারিয়ে ফেলেছেন।
চীনে বর্তমানে চলছে গ্রাম পুনরুজ্জীবনের ধারা। অনেক তরুণ তরুণী গ্রামে ফিরে আসছেন এবং নিজের গ্রামের উন্নয়নে কাজ করছেন।
এমনি একজন তরুণী ই হুয়া। ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিয়াংসি এলাকায় কেটেছে তার শৈশব। ছোটবেলা থেকেই মিয়াও লোকজ শিল্প, ঐতিহ্য ও নকশা তাকে মুগ্ধ করে। তার ভিতরে ছিল শিল্পী সত্তা। কিন্তু জীবন জীবিকার প্রয়োজনে তার পরিবার থেকে বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিতে। তিনি ছাংশার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমিউনিকেশন টেকনোলজিতে গ্র্যাজুয়েট হন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে চাকরিও শুরু করেন একটি প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু তার সবসময়েই মনে হতো যদি মিয়াও এমব্রয়ডারি নিয়ে কিছু করতে পারতেন। তিনি তার শিল্পচর্চা চালিয়ে যেতে থাকেন। ২০০৯ সালে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে মিয়াও এমব্রয়ডারি নিয়ে শিল্পচর্চাই করবেন। তিনি চাকরি ছেড়ে চলে যান সাংহাই। সাংহহাই ও কুয়াংচৌতে ডিজাইনিংয়ের উপর পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
দুই বছর পর তিনি সিয়াংসিতে ফিরে এসে ছোট্ট একটি কারখানা দেন। মাত্র দুটি সেলাই মেশিন নিয়ে যাত্রা শুরু করেন ই হুয়া।
২০১২ সালে তিনি আধুনিক টেইলরিং শিল্পের সঙ্গে মিয়াও এমব্রয়ডারির সংযোগ ঘটিয়ে পোশাক নির্মাণের একটি প্রেতিষ্ঠান গড়েন। তার স্বামী লিন চিয়ে এই প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ করেন।