আকাশ ছুঁতে চাই ২৪
বিভিন্নস্থানে ঈদের মেলাতেও নারী ও শিশুদের আনন্দমুখর পদচারণা চোখে পড়ে।
আর ঈদে গৃহসজ্জার দায়দায়িত্বও পালন করেন নারীরাই। সবমিলিয়ে চীনের মুসলিম নারী শিশুসহ সকলের জন্য ঈদ বয়ে আনে আনন্দের বার্তা।
ফুচিয়ানে পঞ্চদশ ‘প্রণালী নারী ফোরাম’
তাইওয়ান প্রণালীর উভয় তীরের নারীদের সম্পর্ক আরও গভীর করতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চদশ প্রণালী নারী ফোরাম।
চীনের ফুচিয়ান প্রদেশের সিয়ামেন শহরে সম্প্রতি, পঞ্চদশ প্রণালী ফোরাম এবং প্রণালী নারী ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য ছিল: "গৃহের জন্য গান এবং ভবিষ্যতের জন্য একাগ্রতা"।
ফোরামে চীনের তাইওয়ান, হংকং ও ম্যাকাওয়ের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৪০০ জন নারী অংশগ্রহণ করেন। চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান ও নিখিল চীন নারী সমিতির চেয়ারম্যান শেন ইউয়ে ইউয়ে ফোরামে উপস্থিত ছিলেন।
ফোরামে শেন ইউয়ে ইউয়ে আশা করেন, তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পাশের নারীরা ইতিহাসের সাধারণ প্রবণতা উপলব্ধি করবেন; জাতির ন্যায়পরায়ণতার চেতনাকে সমুন্নত রাখবেন; ‘এক-চীন নীতি’ ও "১৯৯২ মতৈক্য" মেনে চলবেন; দুই তীরের সম্পর্ক আরও গভীর করতে সচেষ্ট থাকবেন; চমত্কার চীনা সংস্কৃতির প্রচার ও স্বদেশীদের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা পালন করবেন; চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়ন প্রচারে ও মাতৃভূমির পুনর্মিলনের পক্ষের শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।
ফোরামে তাইওয়ান প্রণালীর দুই তীরের নারীদের এবং হংকং ও ম্যাকাওয়ের নারী সমাজের মধ্যে আরও বেশি করে যোগাযোগ ও বিনিময় বৃদ্ধিতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তারা মমতাময়ী বন্ধু
মানুষের জীবন যখন শেষ ধাপে এসে পৌছায়। মরণাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে কাটাতে হয় তখন মমতার স্পর্শ নিয়ে যিনি এগিয়ে আসেন তিনিই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে আপন। মৃতুপথযাত্রী মানুষদের জন্য সেবা ও স্বান্তনার স্পর্শ দিচ্ছেন কয়েকজন নারী। এই মমতাময়ী নারীদের কথা শুনবো একটি বিশেষ প্রতিবেদনে।
চীনের চেয়িাং প্রদেশের হাংচৌ সিটি। চেচিয়াং হাসপাতালের একজন রোগী জীবনের শেষ প্রান্তে উপস্থিত হয়েছেন। মৃত্যুশয্যায় তার পাশে বসে তাকে স্বান্ত্বনা দিচ্ছেন, তার হাত ধরে আছেন একজন মমতাময়ী বন্ধু। এই বন্ধু হলেন নার্স হোং ডানডান। তিনি হোসপাইস পরিষেবা দলের একজন সদস্য।
হোং তার ক্যারিয়ার নিয়ে সুখী। কারণ তিনি মনে করেন এটা তার শুধু চাকরি নয়, বরং তিনি মানুষের সেবা করতে পারছেন। রোগীরা তার কাছে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের মতোই আপনজন হয়ে ওঠেন।
চীনের হাসপাতালগুলোতে এখন এ ধরনের পরিষেবা ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। চেচিয়াং হাসপাতালের ৪৪ বছর বয়সী নার্স সিয়াং ছিয়াওচেন জানান, একজন রোগী যখন মৃত্যুর প্রান্তে উপস্থিত হন তখন তিনি শুধু চিকিৎসা নয় পাশাপাশি মমতা, ভালোবাসা , সহানুভূতি ও সাহস প্রত্যাশা করেন। রোগীর কি ধরনের কষ্ট হচ্ছে, তিনি কি বলতে চান সেটা বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। কারণ এই সময় রোগীর কথা অনেক সময় বোঝা যায় না। তিনি বুঝতে চেষ্টা করেন তাদের কথা। তার মনে কিভাবে একটু ভালো অনুভূতির সৃষ্টি করা যায় সর্বক্ষণ সেই চেষ্টা করেন মমতাময়ী সিয়াং।
সিয়াং জানান এই হাসপাতালে তার মতো ২৬ জন নার্স আছেন যারা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সেবা, মমতা, যত্ন, স্নেহ ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাদের জীবনের শেষ অবস্থাকে একটু সহনীয় করে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
সিয়াং কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন। মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের সঙ্গে গল্প করে, তার অতীতের সুন্দর স্মৃতিচারণ করে, গান শুনিয়ে কিংবা তার মন ভালো করার জন্য আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে কিভাবে তাদের শেষ সময়কে কিছুটা হলেও আনন্দের করে তুলেছেন তিনি।