আকাশ ছুঁতে চাই ২৩
১. ড্রাগনবোট ফেস্টিভ্যাল : সাও ইর গল্প
২. প্রতিবন্ধকতাজয়ী পিয়ানো শিক্ষক চেং তানি
৩. নারীদের শিল্প: থুবু কাপড়
নারী ও শিশু বিষয়ক অনুষ্ঠান আকাশ ছুঁতে চাই থেকে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আমাদের অনুষ্ঠানে আমরা কথা বলি নারী ও শিশুর অগ্রযাত্রা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সাফল্য, সংকট সম্ভাবনা নিয়ে। আমরা কথা বলি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার নিয়ে।
চীনে এখন চলছে ড্রাগন বোট ফেস্টিভ্যালের মৌসুম। ড্রাগন বোট ফেস্টিভ্যাল নিয়ে বিভিন্ন লোকজ কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। এরমধ্যে একটি কাহিনী হলো একজন বাবা ও মেয়ের শ্রদ্ধা ও স্নেহের অসামান্য কাহিনী।
ড্রাগনবোট ফেস্টিভ্যাল : সাও ইর গল্প
চীনের একটি বড় উৎসব ড্রাগন বোট ফেস্টিভ্যাল বা তুয়ান উ উৎসব। এই উৎসবের পিছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি লোককাহিনী। এর একটি কাহিনী হলো বাবার প্রতি একজন মেয়ের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার করুণ কাহিনী।
প্রাচীনকালে সাও ই নামে এক তরুণী মধ্য পূর্ব চীনের চেচিয়াং প্রদেশে বাস করতেন। সাও ইর জন্ম ১৩০ খ্রিস্টাব্দে বা ১৪৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। সাও ই তার বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। বাবা ও মেয়ে বাস করতেন নদীর তীরে। সাও ইর বাবা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একদিন তার বাবা একটি নদীতে ডুবে যান। বাবার মৃতদেহের সন্ধানে সাও ই আহার নিদ্রা ত্যাগ করে নদীর তীরে ঘুরতে থাকেন এবং মর্মস্পর্শী বিলাপ করতে থাকেন। পঞ্চম চান্দ্র মাসের পঞ্চম দিনে সাও ই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
গ্রামবাসীরা সাও ই এবং তার বাবাকে খুব পছন্দ করতেন। তারা নিখোঁজ বাবা মেয়ের সন্ধ্যানে নদীতে নৌকা ভাসান। নদীর দানবরা যেন তাদের মৃতদেহ খেয়ে না ফেলতে পারে এজন্য ছোট ছোট খাবারের পুঁটুলি তারা নদীতে ছুঁড়ে ফেলতে থাকেন।
পাঁচদিন পর পিতা ও কন্যার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। দেখা যায় সাও ই তার বাবার মৃতদেহ জড়িয়ে ধরে আছেন। বাবার প্রতি কন্যার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখে গ্রামবাসীরা চোখের জল ধরে রাখতে পারেন না। বাবার প্রতি কন্যার এই মহান ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ স্মরণে সেখানে একটি মন্দির নির্মাণ করেন গ্রামের মানুষ। নদীটির নামকরণও করা হয় সাও এর নামে। সাও নদীটি হলো হাংচৌ প্রদেশে প্রবাহিত ছিয়াংথাং নদীর একটি শাখা নদী। ঘটনাটি ঘটে ১৪৩ খ্রিস্টাব্দে বা ১৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। সাও ইর স্মরণে উত্তর চেচিয়াং-এ ড্রাগন বোট উৎসব পালন করা হয়।
প্রতিবন্ধকতাজয়ী পিয়ানো শিক্ষক চেং তানি
প্রতিবন্ধকতা কোন বাধা নয়। এই কথাটি নতুনভাবে প্রমান করেছেন চীনের চিয়াংসি প্রদেশের বাসিন্দা চেং তানি। চোখে দেখতে না পেয়েও পিয়ানোয় সুর তোলেন তিনি। অনেকটা সময় পিয়ানোর সাথে কাটিয়ে এখন শেখান পিয়ানো বাজানো।
পূর্ব চীনের চিয়াংসি প্রদেশের নানচাং শহরের চিয়াংসি চোংশান ডান্স স্কুল। আলো আঁধারি ছোট্ট ঘরে সাত সুরের মূর্ছনা। পিয়ানোতে তখন চলছে দশ আঙুলের জাদু। এক সুর থেকে আর এক সুরে উত্তরণ ঘটছে এক অদ্ভুত দক্ষতায়, মুগ্ধ হয়ে সেই তালে নাচছেন শিক্ষার্থীরা। মোহনীয় আবহে এভাবেই পিয়ানো শেখান শিক্ষক চেং তানি।
৩১ বছর বয়সী চেং তানি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। জন্ম থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই নারী ভর্তি হন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের একটি বিশেষায়িত স্কুলে। সুরের প্রতি আলাদা টান কাজ করায় সুস্থ দৃষ্টিসম্পন্ন শিশুদের পাশাপাশি গান বাজানো শিখেছেন তিনি। গানের প্রতি তার আবেগ তৈরি হয় সেই ছোট্ট বয়সেই।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে, চেং তানি চিয়াংসির চোংশান ডান্স স্কুলে পিয়ানোর শিক্ষকতা শুরু করেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে নানারকম চ্যালেঞ্জের মধ্যদিয়ে যেতে হয়। প্রতিদিন সকালে অনুশীলন করতে এবং ক্লাসের জন্য প্রস্তুতি নিতেহয় তাকে। শিক্ষার্থীদের যাতে নিপুনভাবে শেখাতে পারেন সেজন্য বাসায় অতিরিক্ত সময় চর্চা করেন তিনি।