আকাশ ছুঁতে চাই ২০
চাকরির পাশাপাশি কলেজে লেখাপড়া চালিয়ে তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা বৃদ্ধি করেন। একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উঁচু পদে যোগ দেন। হোয়াইট কলার জব বা কর্মকর্তা স্তরে কাজ করার স্বপ্ন পূরণ হয় তার। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি।
চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর চেন নতুন শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন। তিনি শিল্পকলা বিষয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। তার ইচ্ছা হয় তিনি শিল্পকলা বিষয়ক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আর্ট গাইডের কাজ করবেন।
৬৭ বছর বয়সে তিনি আর্ট গাইডের কাজ শুরু করেন। বেইজিংয়ে দেশি বিদেশি দর্শকদের প্রাচীন ও সমকালীন চীনা শিল্পকলা বুঝিয়ে বলেন তিনি। গেল পাঁচ বছরে তিনি আর্ট গ্যালারিগুলোতে গড়ে সপ্তাহে তিনদিন হিসেবে ৩ হাজার ৫০০ ঘন্টা কাজ করেছেন। শুধু চীনা শিল্পকলাই নয় আধুনিক পাশ্চাত্য শিল্পকলা বিষয়েও লেখাপড়া করেন তিনি। তিনি বিখ্যাত শিল্পী চং ফানচি, সু বিং, ছিউ চিচিয়ে এবং পাবলো পিকাসোর শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর গাউড হিসেবেও কাজ করেছেন।
চেন মনে করেন যদি কেউ কোন কিছু শিখতে চায় বা নতুনভাবে জীবন গড়তে চায়, কোন যোগ্যতা অর্জন করতে চায় তাহলে বয়স কোনো বাধা নয়। বিশেষ করে জ্ঞান অর্জনের পথে বয়স কোন বাধা নয়। জানার আগ্রহ এবং এগিয়ে চলার উদ্যম এ দুটি যে কোন বয়সেই মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
চেন মনে করেন মানুষের বয়স একটি সংখ্যা মাত্র। তিনি আরও মনে করেন মানুষ পৃথিবীতে একবারই জন্মগ্রহণ করে। এই মানব জীবনে কোন বিষয়ে খেদ রাখা উচিত নয়। যার যেদিকে আগ্রহ সেদিকে চলার চেষ্টা করা উচিত।
নারীদের জন্য তার মনে হয় যে, অনেক নারী জীবনের শুরুতে নানা প্রতিকূলতার কারণে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারেন না। এজন্য পরেও যদি সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে সেদিকে অগ্রসর হতে পারেন। নারীদের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয়ে মনোযোগ দেয়া প্রওেয়াজন বলে তিনি মনে করেন। চেন মনে করেন অনেক নারী সংসার ও গৃহকর্মে খুব বেশি মনোযোগ দিতে গিয়ে নিজের কাংখিত লক্ষ্য অনুযায়ী ক্যারিয়ার গড়তে পারেন না। এক্ষেত্রে তার পরামর্শ হলো দৃঢ়ভাবে সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে। একজন নারীকে যদি পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ বাধাও পার হতে হয় তাহলে সেটাও করতে হবে বলে মনে করেন এই উদ্যমী নারী।
প্রতিবেদন: শান্তা মারিয়া
সম্পাদনা: রহমান
সুপ্রিয় শ্রোতা আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পৌছে গেছি আমরা।
অনুষ্ঠানটি কেমন লাগছে সে বিষয়ে জানাতে পারেন আমাদের কাছে। আপনাদের যে কোন পরামর্শ, মতামত সাদরে গৃহীত হবে। আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আবার কথা হবে আগামি সপ্তাহে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।
সার্বিক সম্পাদনা : ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী
লেখা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: শান্তা মারিয়া,
অডিও এডিটিং: রফিক বিপুল