আকাশ ছুঁতে চাই ১৪
১. চীনের মুসলিম নারীদের ঈদ
২. মা সালমা
২. বর্ষসেরা নারী ফুটবলার ওয়াং শান শান
নারী ও শিশু বিষয়ক অনুষ্ঠান আকাশ ছুঁতে চাই থেকে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আমাদের অনুষ্ঠানে আমরা কথা বলি নারীর অগ্রযাত্রা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সাফল্য, সংকট সম্ভাবনা নিয়ে। আমরা কথা বলি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার নিয়ে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক।
চীনের মুসলিম নারীদের ঈদ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে একইভাবে বাংলাদেশের ও চীনের মুসলিমরাও পালন করছেন ঈদ উল ফিতর । চীনে মুসলিম নারীরা ঈদের সময় মেতে ওঠেন উৎসবের আনন্দে।
চীনে যে দশটি জাতির মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন তারা হলেন হুই, উইগুর, তাজিক, কাজাখ, পাওআন, সালার, কিরগিজ, তাতার, তুংসিয়াং ও উজবেক। এই জাতির মুসলিম নারীরা ঈদ উৎসবের সময় তাদের জাতির ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সামগ্রী তৈরি করেন। তারা ঐতিহ্যবাহী বিশেষ রঙিন পোশাক পরেন এবং নানা রীতি রেওয়াজের মধ্য দিয়ে ঈদের উৎসব পালন করেন। ঈদের জন্য তারা বিশেষভাবে ঘর সাজান এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।
উইগুর নারীরা ভেড়ার মাংসের তৈরি বিশেষ এক ধরনের ঝোল জাতীয় ডিশ তৈরি করেন। সঙ্গে থাকে বিশেষ পোলাও। উইগুরদের পোলাওয়ের নাম পোলার। চাল ভেড়ার মাংস, ভেড়ার চর্বি, তেল, পিঁয়াজ ও গাজর দিয়ে এই পোলাও রান্না করা হয়।
তাজিক নারীরা ঈদের সময় বিশেষ নকশা করা রঙিন স্কার্ট পরেন। সঙ্গে থাকে লাল রঙের বুট ও সুন্দর নকশা করা টুপি। উজবেক নারীরাও ঈদের দিনে রঙচঙে পোশাক পরেন।
তাতার নারীরা ঈদের উৎসবে ফুলের নকশা করা মুক্তা বসানো টুপি পরেন। সাদা, হলুদ, লাল বা গোলাপি রঙের কুচি দেয়া লম্বা কুর্তি পরেন নারীরা। ঈদের দিনে তাতার নারীরা অনেক রকম অলংকার পরেন। ঈদে একটা বিশেষ রকমের নকশা করা দুল, ব্রেসলেট, নেকলেস পরেন।
ঈদে তাতারদের ঐতিহ্যবাহী কিছু খাদ্য আছে। তাতার নারীরা পেস্ট্রি ধরনের একটি খাদ্য তৈরি করেন । এর নাম কুপাইতিয়াই। পনির, শুকনো এপ্রিকট, ও চাল দিয়ে এটি তৈরি হয়।
সিনচিয়াংয়ের কাশগরে ঈদের দিন নামাজের পর ঈদকাহ মসজিদের সামনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। ওই অনুষ্ঠানে নারী পুরুষ সকলেই অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানের জন্য নারীরা বিশেষভাবে নতুন পোশাক বা উৎসবধর্মী পোশাক পরেন।
চীনের হুই মুসলিমসহ বিভিন্ন জাতির মুসলিম নারীরা ঈদের জামাতে অংশ নেন। তারা ঈদের দিনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনাতেও অংশ নিয়ে থাকেন। ঈদ উপলক্ষে মেলাতে বিভিন্ন স্টলে বেচাকেনায় নারীদের বিপুল উপস্থিতিও চোখে পড়ে।
প্রতিবেদন ও কণ্ঠ: শান্তা মারিয়া
‘মা সালমা’
চীনে দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন এমন অনেক বিদেশি আছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন অনেক নারী। বিদেশিরা চীনের জীবন যেমন উপভোগ করছেন তেমনি তাদের দেশ ও চীনের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ গড়ে তুলতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। অনেক বিদেশি নারী চীনে শিক্ষকতা করছেন। এদেরই একজন হলেন সালমা ইব্রাহিম। তাকে সবাই ডাকেন মা সালমা নামে।
চীনের ছাত্রছাত্রীরা তাকে ডাকে ‘মামা সালমা’ বা ‘মা সালমা’। কারণ স্নেহে ও সহযোগিতায় অনেক শিক্ষার্থীর মনে মায়ের আসন অধিকার করেছেন তিনি।
সালমা ইব্রাহিম ২০০৮ সাল থেকে চীনে বসবাস করছেন। ছোংছিং মহানগরীর সিচুয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভারসিটির তিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক।
সালমার বয়স এখন ৭৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চীনে আরবি ভাষা ও সাহিত্যই কেবল শিক্ষা দিচ্ছেন না , পাশাপাশি সিরিয়া ও চীনের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সৌহার্দ্য গড়ে তোলার কাজও করে চলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে সাংস্কৃতিক দূত বলে মনে করি।’
তিনি অনেক আরব বিশ্ববিদ্যালয় ও সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময়ের যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেছেন। চীনের জীবন তিনি খুব ভালোবাসেন। চীন তার দ্বিতীয় জন্মভূমিতে পরিণত হয়েছে।
তিনি চীনকে যেমন ভালোবাসেন তেমনি তার ছাত্রছাত্রীরাও তাকে মায়ের মতো ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে।