আকাশ ছুঁতে চাই পর্ব ৯৩
কী থাকছে এবারের পর্বে
১. ‘ওয়েল্ডিং মুলান’ ই রান
২. বীমা শিল্পে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নারী
৩. গান: শিল্পী না ইং
৪. ভেষজ চাষে কর্মসংস্থান হচ্ছে নারীর
৫. কিংবদন্তি বিজ্ঞানী উ চিয়েন শিউং
চীন আন্তর্জাতিক বেতারের ঢাকা স্টেশন থেকে প্রচারিত আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি ভালো আছেন। আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানে আমরা সবসময় কথা বলি নারীর সাফল্য, সংকট, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে।
ওয়েল্ডিং মুলান’ ই রান
চীনের একজন গুণী নারী ওয়েল্ডার ই রান। অসামান্য দক্ষ এবং সাহসী একজন কর্মকর্তা তিনি। কর্মজীবনের এই পর্যায়ে এরইমধ্যে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রেলওয়ে বিভাগ এবং ওয়েল্ডিং শিল্পে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নারীরাও পুরুষের মতো চমৎকার কাজ করতে সক্ষম বলে মনে করেন ই রান। বিস্তারিত থাকছে রিপোর্টে।
জ্যেষ্ঠ নারী ওয়েল্ডার ই রান। ওয়েল্ডিং এর কথা শুনলেই মনে হয় এটা ছেলেদের পেশা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই পেশায় নারীদের অংশ গ্রহণ রয়েছে। মজার ব্যাপার যেটা, চীনে এই পেশায় নারীরা ভালো করছেন। আর এই পেশায় কাজ করা একজন সফল নারী ই রান।
মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের চুচোও শহরে অবস্থিত চায়না রেলওয়ে রোলিং স্টক কর্পোরেশন (CRRC) চুচোও ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কোম্পানি। ই রান এই কোম্পানির একজন সফল নারী ওয়েল্ডার কর্মকর্তা। তিনি ১৮ বছর বয়স থেকে রেলওয়ে মালবাহী গাড়ি উৎপাদনে নিযুক্ত রয়েছেন।
বিশ্ব মানের রেলওয়ে মালবাহী গাড়ি তৈরিতে চীন অনেক এগিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই শিল্পে চীনের অবস্থান অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ উপরে রয়েছে। কারণ চীনারা একদিকে যেমন তাদের দৃঢ মেধাশক্তিকে কাজে লাগায় অন্যদিকে উচ্চ গতিতে কাজ করতেও তারা সক্ষম।
চীনের রেলওয়ে বিভাগে গত ২১ বছর ধরে কাজ করছেন এই নারী। দেশের রেল পণ্য পরিবহনের দ্রুত বিকাশের সুবিধার্থে ৮০ হাজারেরও বেশি রেলওয়ে পণ্যবাহী গাড়ি তৈরি এবং চালু করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা রয়েছে।
একমাত্র নারী অংশগ্রহণকারী হিসেবে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ওয়েল্ডিং প্রতিযোগিতার মঞ্চেও দাঁড়িয়েছিলেন ই রান। স্থানীয় মিডিয়া তাকে চীনের বৈদ্যুতিক ‘ওয়েল্ডিং মুলান" বলে অভিহিত করে।
রেলওয়ের মালবাহী গাড়ি তৈরির জন্য অনেক ঢালাই প্রয়োজন হয়। উচ্চ তাপমাত্রা এবং বৈদ্যুতিক আর্ক লাইট ঢালাই প্রক্রিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আর এই কাজটি ওয়েল্ডারদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের। খুব সতর্ক হয়ে এধরনের কাজ করার কথা জানান ই রান। তিনি বলেন,
‘গাড়ির পুরো বডির ওয়েল্ডিংয়ে সর্বোচ্চ গুণগত মান মেনে চলা প্রয়োজন। এর প্রতিটি ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত এবং ভিতরে বাইরে থেকে কোনো ত্রুটি থাকা উচিত নয়। আর ওয়েল্ডিং প্রযুক্তি এবং ওয়েল্ডারদের মৌলিক দক্ষতা উভয়ই অত্যন্ত জরুরি।’
এই ধরনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় ই অভিজ্ঞ একজন শিক্ষক এবং তার পরামর্শদাতা হিসেবে ইয়াং ওয়েইতং নামে একজনকে নিয়োগ দেন। এক পর্যায়ে তং বিভিন্ন পরামিতিসহ দুটি ঢালাই পদ্ধতি অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নেন, যার মধ্যে বৈদ্যুতিক প্রবাহ , ভোল্টেজ, ঢালাইয়ের গতি এবং সুইং পদ্ধতি একে অপরের থেকে আলাদা। এর পার্থক্য খুবই সূক্ষ্ম, যা ওয়েল্ডারের দক্ষতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে বলে জানান রান।
ই রান মনে করেন, নারীরাও পুরুষের মতো চমৎকার কাজ করতে সক্ষম। যেকোনো ক্ষেত্রে নিজেকে যদি কেউ উৎসর্গ করে কাজ করে তবে বিজয়ী হওয়া সহজ এবং সম্ভব।
বীমা শিল্পে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নারী
বাংলাদেশের বীমা শিল্পে এখন অনেক নারী এগিয়ে আসছেন। নারীদের জন্য বীমা পেশায় এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আজ আমরা কথা বলবো ন্যাশনাল লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা আফরিন সুলতানা জলির সঙ্গে। তিনি এই কোম্পানির পলিসি সার্ভিস বিভাগে ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। আমাদের অনুষ্ঠানে তাকে স্বাগত জানাই।
সাক্ষাৎকার: