আকাশ ছুঁতে চাই ৮২
আকাশ ছুঁতে চাই ৮২
কী আছে এবারের পর্বে
১. বিজ্ঞানে এগিয়ে যাচ্ছেন চীনের নারী
২. হাইনানে উদ্যোক্তা নারীদের প্রতিযোগিতা
৩. গান: যাকে তুমি ভালোবাসো
৪. চীনের ঐতিহ্যবাহী কালো মাটির পাত্র
৫. স্বেচ্ছাসেবী চান ইউ চেন
৬. বাংলাদেশের ৫০ জন নারী কবির কবিতা নিয়ে লন্ডন থেকে বই
৭. প্রতিবন্ধিতাকে হার মানালেন লি হাও
চীন আন্তর্জাতিক বেতারের ঢাকা স্টেশন থেকে প্রচারিত আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি ভালো আছেন।
চীনে বিজ্ঞান চর্চায় নারীর অংশগ্রহণ ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় সাফল্যের জন্য নারীরা পাচ্ছেন স্বীকৃতি। চায়নিজ নিউরো সায়েন্টিস্ট হু হাইলান এবং বিশ্বের আরও চারজন নারী বিজ্ঞানী সম্প্রতি ২০২২ লোরিয়েল ইউনেসকো বিজ্ঞানে নারী পুরস্কার জয় করেছেন। বিস্তারিত প্রতিবেদনে।
বিজ্ঞানে এগিয়ে যাচ্ছেন চীনের নারী
লোরিয়েল-ইউনেসকোর যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানে কৃতী নারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি প্যারিসে ইউনেসকোর সদর দপ্তরে এই পুরস্কার জয় করেছেন পাঁচজন কৃতী নারী।
এর মধ্যে রয়েছেন চীনের নিউরো সায়েন্টিস্ট হু হাইলান। চেচিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অব মেডিসিনের নিউরো সায়েন্স সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক হলেন হু হাইলান।
হু এই পুরস্কার জয় করেছেন নিউরো সায়েন্সে তার যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য। হু এর এই আবিষ্কারের ফলে বিষণ্ণতা প্রতিরোধে আগামি দিনের ওষুধ তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে।
এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে আনন্দিত হু বলেন,
‘চায়নিজ নারী বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছেন। এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দানকারী অনেক নারী বিজ্ঞানীর দেখা মিলছে। আমি এই পুরস্কারে সম্মানিত বোধ করছি। এই পুরস্কারের মাধ্যমে আমি সেইসব নারী বিজ্ঞানীর কাতারে পৌছেছি যারা আমার আদর্শ এবং যাদের কাজ আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দেয়। আমি অন্য তরুণ নারী বিজ্ঞানীদের অনুপ্রেরণা দিতে চাই এবং বিজ্ঞানের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ভাগ করে নিতে চাই। ‘
হু হাইলান বিষণ্ণতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এবং ডিপ্রেশন প্রতিরোধে তার গবেষণাগারে নিরন্তর শ্রম দিচ্ছেন। আগে এ ধরনের কাজে এবং কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কারে ১০ থেকে ২০ বছর সময় লেগে যেত। কিন্তু এখন অত সময় নেই। দরকার দ্রুত ওষুধ এবং রোগটিকে থামানো।
হু বলেন, ‘বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন এরমধ্যেই ক্যানসার ও হার্ট ডিজিজের চেয়েও বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কারণে। কোভিড ১৯ প্যানডেমিকের কারণে বিষণ্ণতার পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার মনে হয় বিজ্ঞানীরা এই সমস্যা সমাধানকে একটি মিশন হিসেবে নিয়েছেন। গবেষণার মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনকে উন্নত করে তুলছেন।’
নারী বিজ্ঞানীরা এভাবেই এগিয়ে চলেছেন এবং নিজেদের কৃতিত্বে বিশ্ব বিজ্ঞানের আসরে নিজেদের মর্যাদাকে তুলে ধরছেন।