চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাপ্তাহিক আয়োজন: বিজ্ঞানবিশ্ব
৮৪তম পর্বে যা থাকছে:
১। চাঁদের মাটি থেকে পানি আহরণের পদ্ধতি আবিষ্কার চীনে
২। চীনে রকেট প্রযুক্তিতে তৈরি হলো হৃদরোগের যন্ত্র
৩। শীর্ষ উদ্ভাবনী পুরষ্কার পেলো চীনের পানি শোধনাগার প্রকল্প
চাঁদের মাটি থেকে পানি আহরণের পদ্ধতি আবিষ্কার চীনে
চাঁদের মাটি থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে পানি আহরণের যুগান্তকারী একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ইনোভেশন’ জার্নালে চীনা বিজ্ঞানীদের এ অসাধারণ কৃতিত্বের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।
ছাং’এ-৫ মিশনে পাওয়া চাঁদের নমুনা বিশ্লেষণের পর চাঁদের মাটি থেকে পানি আহরণের এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন চীনের গবেষকরা। যা ভবিষ্যতের চন্দ্রমিশনে বড় বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং এতে করে চাঁদের বুকে স্টেশন তৈরির সম্ভাব্যতাও বেড়ে গেছে অনেকখানি।
চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের অধীনে নিংবো ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়ালস টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গবেষকদের আবিষ্কৃত এ পদ্ধতিতে এক টন চাঁদের মাটি থেকে ৭৬ কেজি পর্যন্ত পানি উৎপাদন করা যাবে।
গবেষক ছেন সিয়াও জানিয়েছেন, হিলিয়াম পাওয়ার আশায় চাঁদের মাটিতে থাকা টাইটেনিয়াম আয়রনের আকরিককে প্রচণ্ড তাপে উত্তপ্ত করার পরই সেখানে পানির বুদবুদ তৈরি হতে থাকে।
গবেষকরা আরও জানতে পেরেছেন, কোটি বছর ধরে চাঁদের মাটির খনিজ উপাদানগুলো সৌর বিকীরণের সংস্পর্শে সমৃদ্ধ হয়েছে এবং তাতে যথেষ্ট হাইড্রোজেনের মজুদ রয়েছে। উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ওই হাইড্রোজেন খনিজগুলো আয়রন অক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লোহা ও প্রচুর পানি উৎপন্ন করে। তারা জানান, চাঁদের মাটি এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে তরল হয় এবং এই রূপান্তরের সময় প্রচুর জলীয় বাষ্প উন্মুক্ত হয়। এ পদ্ধতিতে এক গ্রাম চাঁদের মাটি থেকে প্রায় ৫১ থেকে ৭৬ মিলিগ্রাম পানি পাওয়া সম্ভব বলে গবেষণায় দেখা গেছে।