‘বিজনেস টাইম’পর্ব- ২৪
কোম্পানির এআই-চালিত প্ল্যাটফর্মটি বাস্তব সময়ে প্রতিটি অ্যাথলেটের গতির অবস্থা এবং বাস্কেটবলের গতিবিধি বিশ্লেষণ করছে। থ্রিডি মোশন ক্যাপচার অ্যালগরিদম ব্যবহার করে অ্যাথলেটদের কোচিং টিমকে তাৎক্ষণিক ফলাফল জানাচ্ছে এই সিস্টেম।
বেইজিং একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সের গবেষক ওয়াং পেং বলেছেন, প্যারিস গেমসে চীনের অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের খেলা দেখার অভিজ্ঞতা বদলে দিয়েছে। এটি চীনা কোম্পানিগুলোর উদ্ভাবনী শ্রেষ্ঠত্বকেও তুলে ধরেছে। সেই সঙ্গে এমন একটি বহুমাত্রিক ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের ব্র্যান্ডের প্রভাবও বাড়াচ্ছে। এতে করে বিদেশি দর্শকরা ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআই নিয়ে চীনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারবে বলেও জানান ওয়াং।
অন্যদিকে, চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি বাইদু ইনকরপোরেশন এবারের অলিম্পিককে ঘিরে একটি এআই সহায়ক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে। চীনের ডাইভিং দলের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করছে এটি। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলটি কোচদের জটিল সব নির্দেশনা বুঝতে পারে এবং ক্রীড়াবিদদের ডাইভিং ভঙ্গি ও অন্যান্যা ক্রিয়াকলাপ রেকর্ড করতে পারে।
চাইনিজ একাডেমি অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের ই-কমার্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহযোগী রিসার্চ ফেলো হং ইয়ং বলেছেন, বিশ্বমানের ক্রীড়া ইভেন্টে চীনা কোম্পানিগুলো যেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছে তা মূলত প্রযুক্তি বিশ্বের প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ। আর ওই প্রতিশ্রুতি পূরণের ট্র্যাকে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ছুটে যাচ্ছে দুর্দান্ত গতিতে।
।। প্রতিবেদন: ফয়সল আব্দুল্লাহ
।। সম্পাদনা: শাহানশাহ রাসেল
v চীন জুড়ে এক নতুন অর্থনীতির বিকাশ ঘটাচ্ছে পোষাপ্রাণী
পোষাপ্রাণীর বিক্রি চীনের অর্থনীতিতে এনেছে নতুন গতি। অনেকের আগ্রহ বাড়ছে পোষা প্রাণীর ব্যাপারে। তারা ভ্রমণেও সঙ্গে রাখছেন তাদের প্রিয় প্রাণীটিকে।
চিয়াংসু প্রদেশের সুচৌ শহরের একটি হোটেলে পোষা প্রাণীর জন্য ৯টি কক্ষ আছে। প্রতিদিনই রুমগুলো ভাড়া হয়।
শখ করে প্রাণী পোষেন হ্যাং চেসি। তিনি জানান, যখন আমরা ভ্রমণে যাই, তখন পোষা প্রাণীবান্ধব হোটেল খুঁজি।
জেডি মার্কেটের একটা পোষাপ্রাণী ও এ সংক্রান্ত সরঞ্জাম বিক্রির দোকানের মালিক লিউ ছাও। তিনি বলেন, ‘এখন মালিকরা কোথাও ভ্রমণে গেলে তাদের পোষা প্রাণীটাকে একা ঘরে রেখে যেতে পারে। এই অবস্থায় স্বয়ংক্রিয় প্রাণীর ফিডার, লিটার বক্স, পানির ফোয়ারা ওগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।>
বাড়ির সবাই ভ্রমণে বের হলে এখন কৃত্রিম বুদ্ধি বা এআই প্রযুক্তিও পোষাপ্রাণীর দেখাশোনা করছে।
দক্ষিণ চীনের কুয়াংতোং প্রদেশের শেনছেনের একটা এআই প্রতিষ্ঠান এমন এক ক্যামেরা ব্যবহার করছে যা পোষা প্রাণীর গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে। ওই ক্যামেরা প্রাণীর ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোাস্টও করতে পারে। এ প্রযুক্তি মাত্র এক বছর বাজারে রয়েছে এর টার্নওভার প্রায় ৭০ লাখ ইউয়ান।
স্থানীয় একটি এআই ডিভাইস কোম্পানির প্রধান লু শেংবো বলেন,
‘প্রাণীর আচরণের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে, আমরা ক্রমাগত নতুন প্রযুক্তি পণ্য তৈরি করে চলেছি। তাই কোম্পানির দ্রুত প্রসার ঘটছে।’
চীনের পোষা প্রাণী শিল্পের সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, চীনে পোষা প্রাণীর বাজার ছিল প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ইউয়ান। আগামী ২০২৬ সালে এ বাজার ৩৬০ বিলিয়ন ইউয়ানে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
।। প্রতিবেদন: শাহানশাহ রাসেল
।। সম্পাদনা: ফয়সল আব্দুল্লাহ
প্রযোজনা ও উপস্থাপনা: শাহানশাহ রাসেল
অডিও সম্পাদনা: নাজমুল হক রাউয়ান
সার্বিক তত্ত্বাবধান: ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী