মেড ইন চায়না : পর্ব-২২: হাইব্রিড ধান
পরে বি লাইন নামের আরেকটি জাত, যেটা কিনা পরাগায়ন করতে পারে, সেটা দিয়ে প্রথম পুরুষ জাতটির ভেতর পরাগায়ন ঘটান ইউয়ান।
এখন যখন পরবর্তী জাত দিয়ে প্রথম জাতের পরাগায়ন করা হলো, তখন প্রথম গাছটি দীর্ঘদিন তার আগের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে পারে। এক্ষেত্রে প্রথম পুরুষ জাতটিকে বলা হয় এ লাইন, দ্বিতীয়টি হলো বি লাইন। আর এর পরই আছে আর লাইন নামের আরেকটি জাতের কাজ। এটি এমন এক জাত, যা এ লাইনের উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে পারে। অর্থাৎ যখন আর লাইনের সঙ্গে এ লাইনের সংকর করা হবে, তখন সেখানে উৎপাদিত বীজটি হবে উর্বর এবং ওটা তার নিজের বীজ নিজেই তৈরি করতে পারবে। আর এ বীজটিই এফ১ হাইব্রিড নামে পরিচিত। কৃষকরা এ বীজটিই সংগ্রহ করে রোপণ করে থাকে।
ঠিক কোন কোন দিক দিয়ে এগিয়ে আছে হাইব্রিড ধান? শোনা যাক শান্তা মারিয়ার কাছ থেকে
· অনেক দেশকে খাদ্যের চরম সংকট থেকে বাঁচিয়েছে চীনের আবিষ্কার হাইব্রিড ধান।
· এ জাতের ধানে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় কম। এ গাছ বাড়েও দ্রুত।
· হাইব্রিড ধানে জৈবিক প্রক্রিয়ায় কিছু পুষ্টিকর উপাদান তৈরি হয়। এ ধানে বেশি আয়রন, জিংক ও ভিটামিন রয়েছে। গোল্ডেন রাইস নামের একটি হাইব্রিড ধানে আছে বিটা ক্যারোটিন, যা কিনা সচরাচর শাক-সবজি ও ফলমূলে পাওয়া যায়।
· ২০১৮ সালে ইউয়ান লংপিংয়ের নেতৃত্বাধীন গবেষণা দলকে দুবাই সরকার আমন্ত্রণ জানায় তাদের লবণাক্ত ভূমিতে হাইব্রিড ধানের পরীক্ষামূলক রোপণের জন্য। এতে ব্যাপক সাফল্য পান ইউয়ান ও তার দল। দুবাই সরকার তখন এ হাইব্রিড ধানটিকে জাতীয় উপহার হিসেবে সম্মাননা দেয়।
গবেষণাগার থেকে বের হয়ে ১৯৭৩ সালে বিশ্বের প্রথম উচ্চ-ফলনশীল হাইব্রিড ধানের স্ট্রেন চাষে সফল হন ইউয়ান লংপিং। আগে যেখানে ৩০০ কেজি পাওয়া যেত, সেখানে প্রতি মিউ জমিতে ৫০০ কেজি ফলন দেখিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি।
পরবর্তী চার দশক ধরে হাইব্রিড ধানের গবেষণা ও উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যান ইউয়ান। বাড়তে থাকে ফলনের মাত্রা। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে ধানের আরও কিছু গুণ ও প্রতিকূল পরিবেশের প্রতি সহনশীলতা।