মেড ইন চায়না : পর্ব-২২: হাইব্রিড ধান
হাইব্রিড ধান আবিষ্কারের একক কৃতিত্ব প্রয়াত চীনা গবেষক ইউয়ান লংপিংয়ের। তাকেই বলা হয় হাইব্রিড ধানের জনক।
১৯৩০ সালে জন্ম নেন ইউয়ান। ওই সময় চীনের অনেক অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তা দেখেই ধানের ফলন কীভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে উঠেপড়ে লাগেন ইউয়ান লংপিং।
গবেষণা শেষে ওই বছরেই প্রথমে ধানের জিনগত উন্নয়নের বিষয়ে ধারণা দেন ইউয়ান। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় হেটেরোসিস। এ প্রক্রিয়ায় দুটো ভিন্ন জাতকে একীভূত করার ফলে একটি জাতের কোনো একটি বা একাধিক বৈশিষ্ট্য ফুলেফেঁপে ওঠে।
ওই সময় ইউয়ানের ধারণাকে উড়িয়ে দেন অনেকে। কারণ যেসব উদ্ভিদের ভেতর স্বপরাগায়ন ঘটে, সেসব উদ্ভিদে দুই জাতের সংমিশ্রণের নতুন ক্ষমতাসম্পন্ন জাত তৈরি হবে, এমনটা তখন তারা বিশ্বাসই করতে চাননি। কিন্তু থেমে থাকেননি ইউয়ান লংপিং।
ধানের ফলন বাড়াতে পারে এমন বৈশিষ্ট্য সনাক্ত করতে বুনোজাতসহ ঐতিহ্যবাহী ধানের জাতগুলোর ভেতর বৈচিত্র্য খুঁজতে শুরু করেন ইউয়ান লংপিং। ওই সময় তিনি এমন কিছু জাত খুঁজে বের করতে চেয়েছিলেন যা সেই হেটেরোসিস বা হাইব্রিড গুণ সমৃদ্ধ। এতে করে দুটি জিনগত ভিন্ন জাতের মধ্যে ক্রসব্রিডিং ঘটিয়ে তৈরি করা হলে তা হবে একটি প্রাকৃতিক প্রকৌশলবিদ্যা।
ইউয়ানের পরবর্তী ধাপের গবেষণায় বড় অগ্রগতি হলো প্রাকৃতিকভাবে পুরুষ-জীবাণুমুক্ত ধানের উদ্ভিদ আবিষ্কার করা। এই আবিষ্কারটিই ইউয়ানের গবেষণার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি এই জাতটিকে প্যারেন্টস জাত হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। পরে এ জাতের সঙ্গেই অন্যান্য জাতের সংকর ঘটিয়ে তৈরি করেন হাইব্রিড ধানের বীজ।
সহজ করে বলতে গেলে ইউয়ান লংপিং প্রথমে একটি স্থিতিশীল পুরুষ জাত তৈরি করেন যা নিজে থেকে পরাগায়ন করতে পারে না। পরাগায়নের জন্য এর চাই অন্য গাছের পরাগরেণু।