মেড ইন চায়না: পর্ব-১৪: ঘুড়ি
চীনের ঘুড়ির রাজধানী বলা হয় শানতোংয়ের ওয়েইফাং শহরকে। ওই শহর থেকেই আনা হয়েছিল ঘুড়িটি। দুই বছর ধরে প্রায় এক লাখ ইউয়ান খরচ করে বানানো ঘুড়িটিকে আকাশে ওড়াতে তিনজন লোকের লেগেছিল প্রায় ছয় ঘণ্টা।
চীনে কত শত রকমের যে ঘুড়ি বানানো হয় তার শেষ নেই। আগের যুগে সিল্কের ভেতর থাকতো নানা কারুকাজ। আর এখন নাম না জানা অসংখ্য পোকা-মাকড়, পাখি, প্রাণী থেকে শুরু করে পৌরাণিক ড্রাগনও উড়তে থাকে ঘুড়ির বেশে।
চীন থেকে বেশ সময় নিয়েই বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়েছে ঘুড়ির কদর। প্রথম দিকে চীন থেকে ভারতর্ষ জানতে পারে ঘুড়ির কথা। পরে জাপানসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশও ঘুড়িকে নিজেদের সংস্কৃতিক উপাদান হিসেবে আপন করে নেয়।
চীনা ঘুড়ির কথা ইউরোপ জানতে পারে সবার শেষে। ত্রয়োদশ শতকের দিকে মার্কো পোলোর হাত ধরেই ইউরোপবাসীরা ঘুড়ির সন্ধান পায়। পরে আঠারোশ সালের দিকে সেই ঘুড়ি দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকান বিজ্ঞানীরা রীতিমতো গবেষণার কাজও শুরু করেন। ১৭৫২ সালে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন এই ঘুড়ির সাহায্যেই প্রমাণ করেছিলেন, বজ্রপাত হওয়ার জন্য বাতাসে বিদ্যুৎশক্তির তারতম্যই দায়ী। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল চীনের এই আবিষ্কারটি। সারভাইভাল রেডিও বা মিলিটারি রেডিও অ্যান্টেনাকে উঁচুতে তুলে ধরার কাজে ওড়ানো হয়েছিল ঘুড়ি।
বিশ্বের অন্যতম ঘুড়ি রপ্তানিকারক দেশ চীন। দেশটির ঘুড়ির রাজধানী ওয়েইফাংয়ে রয়েছে সবচেয়ে বেশি ঘুড়ির কারখানা। এখান থেকে বছরে রপ্তানি হয় কোটি কোটি ঘুড়ি।
ওয়েইফাংয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের ঘুড়ি। ১০ ইউয়ান থেকে শুরু করে ১০ হাজার ইউয়ান দামের প্রিমিয়াম ঘুড়িও বিক্রি হয় এখানে। আর হাজার বছর আগের সোং রাজবংশের সময় থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছে শানতোংয়ের শহরটিতে। এ বছরই সেখানে হয়ে গেল ২০ তম বিশ্ব ঘুড়ি চ্যাম্পিয়নশিপ। ৪৫টি দেশ থেকে ৪৬৫ জন এ প্রতিযোগিতায় উড়িয়েছিল পাঁচশর বেশি রকমের ঘুড়ি।