মেড ইন চায়না: পর্ব-১৪: ঘুড়ি
আবার যেসব দুর্গম অঞ্চলে কোনো সেতু ছিল না, সেখানে ঘুড়ির সঙ্গে বেঁধে ছোটখাট জিনিসপত্র পাঠানো হতো এ পার থেকে ও পারে।
ঘুড়ি নিয়ে কয়েকটি মজার তথ্য জানাচ্ছেন শান্তা মারিয়া
· চীনে ছিং রাজবংশের সময় দুর্ভাগ্য তাড়াতে ঘুড়ি ওড়ানো হতো। তবে এর জন্য ঘুড়িটা ওড়ানোর পর হাতের দড়িটা ছেড়ে দেওয়া হতো। অর্থাৎ, ধরে নেওয়া হতো, অনেক উঁচুতে হেলেদুলে পড়ন্ত ঘুড়ির মতো নিজের দুর্ভাগ্যটাও দূরে কোথায় চলে যাবে।
· জোরালো বাতাসে বড় আকারে ঘুড়ি ধরে রাখা বেশ কঠিন কাজ। আর বাতাসের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীন চীনে এমন কিছু ঘুড়ি ছিল যাতে ভর করে মানুষও উপরের দিকে যেতে পারতো বেশ খানিকটা। ১২৮২ সালের দিকে চীনে ঠিক এমন একটা মনুষ্যবাহী ঘুড়ির দেখা পেয়েছিলেন ভেনেসিয়ান যুগের পর্যটক মার্কো পোলো।
· হান রাজবংশের সময় চীনা সেনাপ্রধান হান শিন একবার একটি শত্রু শিবিরের দিকে ঘুড়ি উড়িয়েছিলেন। দুর্গ থেকে শত্রুরা কত দূরে আছে সেটা মাপতেই ব্যবহার করেছিলেন ঘুড়ি। ঘুড়ির সঙ্গে বাঁধা দড়ি দিয়েই মাপা হয়েছিল ওই দূরত্ব।
· প্রতি বছর এপ্রিলের ৪ তারিখ চীনে পালিত হয় জনপ্রিয় ছিংমিং উৎসব। প্রিয়জনদের সমাধি পরিষ্কার করাই উৎসবের প্রধান কাজ। আর এ কাজের পরপরই অনেক চীনা ওড়াতে শুরু করেন ঘুড়ি। ছেলেবেলার মতো আনন্দ আর হই হুল্লোড়ে সময় কাটানোর রেওয়াজ হিসেবেই ছিংমিংয়ের দিন বিকেলে তারা সবাই ঘুড়ি ওড়ান।
ঘুড়িতে করে মানুষ উড়তে পারে না। কিন্তু রাইট ভাইয়েরা যখন প্রথম বিমানের নকশা করেন, তখন কিন্তু তারা বাকশো ঘুড়ি দেখেই তৈরি করেছিলেন উড়োজাহাজের মূল কাঠামোর নকশা।
তবে এ নিয়ে যে যাই বলুক না কেন, আকাশে ওড়া মানুষের তৈরি দীর্ঘতম বস্তুটি কিন্তু ঘুড়ি।
২০১৫ সালে, ছয় কিলোমিটার লম্বা ‘চীনা স্বপ্ন’ নামের একটি ড্রাগন ঘুড়ি উড়েছিল চীনের ছংছিংয়ের আকাশে। দীর্ঘ ঘুড়িটি ঠিকঠাক আকাশে উড়াল দিতেই ভেঙে যায় আগের গড়া গিনেজ বিশ্ব রেকর্ড।