মেড ইন চায়না: পর্ব-১০: চপস্টিক
চপস্টিক নিয়ে মজার কিছু তথ্য শোনা যাক এবার
প্রাচীন চীনা রাজবংশের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা রূপার তৈরি চপস্টিক ব্যবহার করতেন নিরাপত্তার খাতিরে। কারণ খাবারে সালফার ভিত্তিক কোনো বিষ মেশানো থাকলে তা রূপার তৈরি চপস্টিকের রং কালো করে দেবে।
চপস্টিক আছে চার ধরনের। চীনারা বৃত্তাকার বা ভোঁতা প্রান্তসহ দীর্ঘ দৈর্ঘ্যের চপস্টিক ব্যবহার করে। জাপানিরা করে খাটো আকৃতির। কোরিয়ানরা ধাতু, প্লাস্টিক বা কাঠ থেকে তৈরি খাটো ও কিছুটা ভোঁতা কাঠি ব্যবহার করে। আর, ভিয়েতনামের লোকেরা ব্যবহার করে লম্বা কাঠের কাঠি।
ঐতিহ্যগতভাবে কাঠ, বাঁশ, নানা ধরনের ধাতু, হাতির দাঁত এবং সিরামিক দিয়ে তৈরি করা হয় চপস্টিক। তবে এখন কাঠের তৈরি ওয়ানটাইম চপস্টিকের ব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের চপস্টিক চীনে প্রতিবছর ব্যবহৃত হচ্ছে ৫০ বিলিয়নেরও বেশি। যা বানাতে কাটতে হচ্ছে প্রচুর সংখ্যক গাছ। আর তাই চীন সরকার দেশের জনগণকে নন-ডিসপোজেবল চপস্টিক ব্যবহারে উৎসাহ দিয়ে চলেছে। যাতে করে এক জোড়া চপস্টিক দিয়ে খাওয়া যায় বহু দিন।
এবার জেনে নেওয়া যাক চপস্টিক ব্যবহারের কিছু আদব কায়দা
চপস্টিক খাবারের পাত্রে গেঁথে রাখা যাবে না। খাবারের মধ্যে খাড়া করে চপস্টিক গেঁথে রাখা হয় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে।
নিজের চপস্টিক দিয়ে সম্মিলিত খাবারের পাত্রে ব্যবহার করা যাবে না। খাবার তুলে নেওয়ার জন্য আলাদা সার্ভিং চামচ বা চপস্টিক রাখা হয়।
চপস্টিক দিয়ে অযথা খাবারে খোঁচাখুঁচি করা যাবে না। একে তুলনা করা হয় গ্রেভ ডিগিং তথা সমাধি খোঁড়াখুড়ির সঙ্গে।
চপস্টিক দিয়ে খাবারের পাত্রে শব্দ করা যাবে না। চীনে এ কাজটা করতে দেখা যায় ভিক্ষুকদের।
ঠিক যে কারণে কারও দিক ছুরি বা কাঁটাচামচ উঁচিয়ে কথা বলা উচিত নয়, ঠিক একই কারণে কারও দিকে চপস্টিক তাক করাও ঠিক নয়। এটি রীতিমতো অভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে।