সিনচিয়াংয়ের সুগন্ধযুক্ত নাশপাতি
কিন্তু দেশের সেনাপ্রধান এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। তিনি নাশপাতি গাছটি যেখানে ছিল, সেখানে তাহিরকে হত্যা করে তার দেহ নদীতে ফেলে দিতে একদল লোক পাঠালেন। তারা তাহিরকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিল। রাজকন্যা ঘটনা জানতে পেরে মর্মাহত হলেন। তিনি শেষবারের মতো নাশপাতি গাছের গোড়ায় পানি দিলেন এবং নদীর তীরে আত্মহত্যা করলেন। এ সময় দেখা গেল অলৌকিকভাবে দুটি ময়ূর নদী থেকে আকাশে উড়ে গেল। সেই থেকে এই নদীর নাম হয়ে গেল ময়ূর নদী।
সুগন্ধযুক্ত নাশপাতি কোরলার উত্স নিয়ে আরও মজাদার কিংবদন্তি আছে। আরেক কিংবদন্তি অনুসারে, প্রাচীনকালে কোরলা এলিমান নামে এক স্মার্ট ও সুন্দরী মেয়ে ছিল। বিশাল সমুদ্রের প্রান্তে গ্রামবাসীদের নাশপাতি খাওয়াতে চাইলেন তিনি। তিনি পাহাড়-নদী ডিঙ্গিয়ে ভালো নাশপাতির চারা অনুসন্ধানে বের হলেন। তাঁর অনুসন্ধানকাজ তিন বছর স্থায়ী হয়েছিল। অবশেষে, একদিন তিনি একটি ভালো জাতের নাশপাতি গাছের সন্ধান পেলেন। তিনি সেই গাছের চারা নিয়ে আসলেন এবং স্থানীয় বন্য প্রজাতির নাশপাতি গাছের সাথে তার কলম করলেন। এভাবে কলমকৃত নতুন এক নাশপাতি গাছের বেড়ে উঠতে লাগল। একসময় সে গাছে ফল ধরল। নাশপাতি পরিপক্ক হলে সুগন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়লো। খেতেও মিষ্টি ও সুস্বাদু।
এ গাছ সম্পর্কে জমিদারের কাছে পৌঁছালে, তিনি সেটিকে উঠিয়ে নিজের বাগানে নিতে চাইলেন। কিন্তু মেয়েটি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেন। এতে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে জমিদার নির্মমভাবে মেয়েটিকে হত্যা করে এবং নাশপাতি গাছটিও কেটে ফেলে। কিন্তু, পরের বসন্তে দেখা গেল, যেখানে নাশপাতি গাছটি বপণ করা হয়েছিল, সেখানে অলৌকিকভাবে আরেকটি নাশপাতি গাছ জন্মেছে। সেটি নিজে নিজে বড় হয় এবং তাতে চমত্কার নাশপাতি ধরে। লোকেরা তখন বলাবলি করতে লাগলো যে, এই গাছটি মেয়েটির আত্মা। সেই থেকে এই নাশপাতি গাছের ব্যাপক চাষাবাদ শুরু হয়।
প্রিয় শ্রোতা, আমাদের হাতে আর সময় নেই। আজকে এখানেই শেষ করতে হচ্ছে। আজকের ‘সিনচিয়াং থেকে সিচাং’ এ পর্যন্তই। তবে, আগামী সপ্তাহে আমরা আবার আপনাদের সামনে হাজির হবো সিনচিয়াং ও সিচাংয়ের কোনো গল্প বা তথ্যভান্ডার নিয়ে। আপনারা আমাদের লিখুন। আমাদের ইমেইল ঠিকানা ben@cri.com.cn আমাদের ওয়েবসাইটেও আপনারা অনুষ্ঠান শুনতে পারেন। আমাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://bengali.cri.cn/ সবাই ভাল থাকুন, সুন্দর থাকুন।