নাউরুতে চীনা প্রতিষ্ঠানের নির্মিত পিভি
২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আইওও বন্দর টার্মিনাল প্রকল্পটি সফলভাবে খোলা এবং পরিচালনা করা হয়। এদিন নাউরুর নাগরিকরা উত্তেজিতভাবে ছবি তুলতে ঘাটে ভিড় করে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের কাছে আসা সব প্রধান সড়ক ঢেলে দেওয়া হয়েছে। সড়কটি চালু হওয়ার পর পরিবহনের ব্যবস্থা আরেক ধাপে উন্নীত হয়েছে এবং কাছাকাছি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন জোরদার করা হয়। এ সম্পর্কে চু ওয়েই বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠান অবশ্যই প্রকল্পটির নির্মাণ দ্রুততর করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নাউরুর জনগণের উপকার করার চেষ্টা করছে।
নাউরু’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিওনেল অ্যাঙ্গারমিন বলেন, গত কয়েক দশকে চীন অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে। চীন অনেক দেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক অংশীদারি সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এটি বিশ্বায়ন উন্নয়নের সহায়ক। চীনের আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে।
গত ২৯ জানুয়ারি নাউরুতে চীনা দূতাবাস পুনরায় খুলেছে। ১৯ বছর পর চীনা জাতীয় পতাকা পুনরায় নাউরুতে উড়তে দেখা গেছে।
চীনা প্রতিষ্ঠানের কর্মী দেং ইউ এ জাতীয় পতাকা নিয়ে নাউরুতে গিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি স্মরণ করার সাথে সাথে দেং ইউ খুব উত্তেজিত বোধ করেন। গত জানুয়ারির মাঝামাঝি তিনি চীন থেকে নাউরুতে যাওয়ার সময় পতাকাটি তার ব্যক্তিগত ব্যাকপ্যাকে রেখেছিলেন এবং ঘুমানোর সময় সাথে রেখেছিলেন। তিন দিন দুই রাতে ১২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ, তিনি চীনা জাতীয় পতাকা নাউরুতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যখন আমি এ পতাকা দেখি, তখন আমার মনে হয় আমি মাতৃভূমির কাছাকাছি।
দেং ইউ বলেন, ১৩ হাজার মানুষের এই প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশে চীনা উপাদান স্থানীয় মানুষের জীবনের সর্বত্র দেখা যায়। চীনা রেস্তরাঁয় দেখা যায় যে, স্থানীয় লোকেরা ভালভাবে চপস্টিকস ব্যবহার করতে পারেন।
নাউরুতে চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর ওয়াং স্যু কুয়াং সত্যিই অনুভব করেন যে, নাউরুর জনগণ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রত্যাশায় পূর্ণ। তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগর চীন ও নাউরুকে সংযুক্ত করেছে। দু’দেশের মধ্যে অনেক মিল আছে। দু’দেশ উভয়ে উন্নয়নশীল দেশ। দু’দেশের অভিন্ন উন্নয়নের দায়িত্ব আছে। পাশাপাশি দুই দেশ একে অপরের সুবিধার পরিপূরক। দু’দেশের খনিজ, মৎস্য, নতুন জ্বালানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা খাতের সহযোগিতার সুপ্তশক্তি বেশি।
বন্ধুত্ব যখনই তা শুরু হবে তখনই তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে উঠবে। সহযোগিতা যতই বড় বা ছোট হোক না কেন, যতক্ষণ তা আন্তরিক হবে, ততক্ষণ তা ফলপ্রসূ হবে।