গ্রাম সম্পাদক হু শান সিন-এর গল্প
স্থানীয় বাসিন্দাদের কৃষিজমি পাহাড়ের মাঝখানে বা পাহাড়ে অবস্থিত। যখন বৃষ্টি হয়, তখন কৃষিজমির ক্ষতি হয়। আবহাওয়া অনুযায়ী ফসল বুনতে হয় তাদের। সেজন্য হু'র প্রথম কাজ ছিল জল সেচব্যবস্থা নির্মাণ করা।
শুয়াইওয়া গ্রামের বাসিন্দারা ১০ বছর সময় নিয়ে ৮ হাজার মিটারেরও বেশি লম্বা খাল ও ৩০টি পুকুর নির্মাণ করে।
কিন্তু পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত শুয়াইওয়া গ্রামের কৃষির উন্নয়ন গ্রমবাসীদের মাংসের চাহিদা মেটাতে পারে না। হু শান সিন বাসিন্দাদেরকে পাহাড়ি অঞ্চলের অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন গাছ চাষ করতে উদ্বুদ্ধ করেন। তখন ৬১ বছর বয়সী চেং গুয়াং ইউন পাহাড়ে চেস্টনাট চাষ শুরু করেন। আট বছর পর তিনি সফলভাবে এক হাজারেরও বেশি চেস্টনাট গাছ চাষ করেন, যা থেকে প্রতিবছর ফসল আসে।
২০ বছরের মধ্যে প্রচুর চেস্টনাট, সবুজ চা, ফির গাছ ও ক্যামেলিয়া চাষ করা হয়। বাসিন্দারা বিভিন্ন গাছ চাষ করার কাঠামোও কয়েক বারের মতো সমন্বয় করে। তখন থেকে গ্রামের প্রতিবছরে বার্ষিক আয় হচ্ছে প্রায় ৭ লাখ ইউয়ান আএমবি। ২০১৮ সালে শুয়াইওয়া গ্রামের সমষ্টিগত সম্পদ ছিল প্রায় ৭ কোটি ইউয়ানের।
গ্রামবাসীদের খাবার ও মাংসের চাহিদা মেটানোর পর হু শান সিন সড়ক নির্মাণ শুরু করেন। আসলে তিনি সম্পাদক হওয়ার পর থেকে সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শুরু করেন। প্রথম সড়কটি ছিল মোট ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। সড়কটি প্রায় ৩০টি পাহাড়কে সংযুক্ত করেছে। ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শুয়াইওয়ার বাসিন্দারা নিজেদের সম্পদ দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করে।
সড়ক নির্মাণের সময় গ্রামের সকল বাসিন্দা অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু শুয়াই তাও ইয়ান'র স্ত্রী রোগাক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁর চারটি সন্তানের বয়স কম। তাঁদের পরিবার খুবই দরিদ্র ছিল। হু শান ইয়ান তাঁদের কাজ কমিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু শুয়াই তাও ইয়ান বলেন, 'আমার পরিবার এত দরিদ্র হওয়ার কারণ হলো গ্রামে সড়ক নেই। আমি সড়ক নির্মাণে অংশ নিতে চাই।' ৩০ বছরে শুয়াইওয়া গ্রামে ৪২ কিলোমিটার সড়ক নির্মিত হয়েছে।
জল সেচব্যবস্থা, পাহাড়ে গাছ চাষ করা, সেতু ও সড়ক নির্মাণ এবং পর্যটন শিল্প উন্নয়নের প্রক্রিয়া চলেছে ৩১ বছর ধরে এবং হু শান সিন বৃদ্ধ হয়েছেন। তিনি এই ৩১ বছরে গ্রামবাসীদের দাবি পূরণের আশাগুলো তাঁর পূরণ হয়েছে।
বর্তমান গ্রামের সম্মেলনে হু শান সিন ভালভাবে ভাষণ দিতে পারেন। তিনি তরুণ ক্যাডারকে দু'টি কথা বলেন: এক. নিজের পরিবারের মতো গ্রাম ব্যবস্থাপনা করতে হবে ও বাসিন্দাদের বিষয়গুলো নিজের পিতামাতা'র বিষয়ের মতো যত্ন নিতে হবে; দুই. একজন দায়িত্বশীল ও যত্নশীল মানুষ হতে হবে।