চেচিয়াংয়ের লিশুই প্রাচীণ গ্রামের পর্যটন সম্পদ
কিন্তু সিয়ানানশান গ্রামের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক সংস্কৃতি ও বৈশিষ্ট্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য সুরক্ষার জন্য স্থানীয় সরকার গ্রামটি শহর পর্যায়ের সুরক্ষিত সাংস্কৃতিক অবকাশ ইউনিটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। পৃথকভাবে গ্রামটির মেরামতকাজ করা হয়। কিন্তু কোনো মানুষ গ্রামে বসবাস করতেন না।
২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার গ্রামীণ অবসর শিল্প উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত লিয়ানচং গ্রুপের সঙ্গে সহযোগিতা করে 'সরকার ও প্রতিষ্ঠান' কাঠামোয় 'হুয়ানথিং-সিয়ানানশান প্রাকৃতিক পর্যটন গ্রাম' নামের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। এ-পরিকল্পনার উদ্দেশ্য প্রাচীন গ্রাম সুরক্ষা, উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার। লিয়ানচং গ্রুপের চেয়ারম্যান ইউ স্যুয়ে বিন মনে করেন, বর্তমানে শহরের বাসিন্দারা গ্রামীণ পর্যটনের ব্যাপারে আগ্রহী। প্রাচীন ঘর-বাড়ি আসলে খুবই মুল্যবান। ঐতিহ্যবাহী গ্রামগুলো পর্যটনসম্পদ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, "পর্যটন-ব্যবসা শুরু করার আগে এখানে কোনো বাসিন্দা ছিল না। বাসিন্দারা নতুন গ্রামে স্থানান্তরিত হয়েছিল। কোনো কোনো গৃহ অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৬ সালে আমরা গোটা গ্রামটি আগের মতো সাজিয়ে তুলি।"
ইউ স্যুয়ে বিন বলেন, গ্রামটির প্রাচীন দৃশ্য পরিবর্তন না-করার জন্য সংস্কারের সময় স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।
বর্তমানে সিয়ানানশান গ্রামের ৪০টিরও বেশি প্রাচীন গৃহ আগের মতো করে সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া, এখানে হোটেল, গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান, নবায়ন ও উদ্ভাবন চিত্রশালা, বইয়ের দোকান ইত্যাদি গড়ে তোলা হয়েছে। আধুনিকতার সঙ্গে মিশেছে প্রাচীন ঐতিহ্য।
বর্তমানে উজ্জীবিত এই প্রাচীণ গ্রাম ব্যাপক পর্যটককে আকর্ষণ করছে। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে পর্যটন-ব্যবসা শুরুর পর থেকে গ্রামটিতে পর্যটক এসেছে এক লাখেরও বেশি এবং এ-থেকে আয় হয়েছে ২৭ লাখ ইউয়ান আরএমবি'রও বেশি। ইউ স্যুয়ে বিন বলেন, পর্যটনশিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, "গ্রামের পরিবেশ অনেক উন্নত হয়েছে। গ্রামবাসীদের প্রতিবছর অর্থ দেওয়া হয়। আমাদের হোটেল ও রেস্তরাঁর খাবারের কাঁচামাল স্থানীয়দের কাছ থেকেই ক্রয় করা হয়। এটিও তাঁদের আরেকটি আয়ের উত্স।"