শাং ইয়াং-এর সংস্কার: সুশাসনের জন্য আইন পরিবর্তন
যুদ্ধরত সময়কাল ছিল প্রাচীন চীনা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যা পরবর্তীতে একত্রীকরণের পথ প্রশস্ত করেছিল। ওই সময়কালে, ভাসাল রাজ্যগুলোর মধ্যে ক্রমাগত যুদ্ধ ছিল এবং সর্বদা দেশ ধ্বংস এবং পরিবার ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই সংস্কারের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে উঠা সে যুগের প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময়ে, বেশকিছু বড় রাষ্ট্র নিজেদের বাঁচানোর জন্য তাদের আইন ও সংস্কার পরিবর্তন করতে শুরু করে। তারা আর আচার-অনুষ্ঠান এবং সঙ্গীতের পুরানো নিয়ম মেনে চলে না। পৃথিবী ও সময় পরিবর্তিত হওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাহসের সাথে নতুন আইন ও সংস্কারের সূচনা করে এবং যুদ্ধরত সময়কালে একটি নতুন চেতনা সৃষ্টি করে তারা।
শাং ইয়াং-এর সংস্কার চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত সংস্কার আন্দোলনগুলোর মধ্যে একটি, যার ইতিহাস ১ হাজার বছরেরও বেশি। বিভিন্ন বিতর্ক থাকলেও, শাং ইয়াং-এর সংস্কারের ঐতিহাসিক অবদান অস্বীকার করা যায় না।
শাং ইয়াং-এর সংস্কার রাজা ছিন শিয়াও কং-এর দৃঢ় সমর্থন পায়। ছিন-এর রাজা শিয়াও কং (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮১-খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৮) ছিন-এর ইতিহাসে একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ছিন দেশকে আরও শক্তিশালী করার জন্য শাং ইয়াং-এর সংস্কার প্রস্তাব সমর্থন করেন। এর মাধ্যমে ছিন রাজ্য একটি সীমান্ত দেশ থেকে বড় দেশে পরিণত হয়। ছিন ছয়টি প্রাচ্য দেশের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হতে এবং ভবিষ্যতে সারা চীনকে একত্রিত করার জন্য শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
শাং ইয়াং (খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৫-খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৮), সেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব যিনি সরাসরি ছিন রাজ্যের ভাগ্যকে পাল্টে দিয়েছিলেন; তার সমস্ত প্রতিভা দিয়ে সংস্কারের একটি অধ্যায় সুচনা করেছিলেন। সংস্কারের মৌলিক ধারণা সম্পর্কে, শাং ইয়াং প্রস্তাব করেছিলেন যে, যদি দেশকে শক্তিশালী করতে হয়, তাহলে পূর্বের নিয়মগুলো অনুসরণ করা যাবে না; যদি জনগণের উপকার করতে হয়, তাহলে বিদ্যমান আচার-অনুষ্ঠানগুলো বাদ দিতে হবে। অতএব, দেশ শাসনে একই নিয়ম থাকবে না, তা পরিবর্তন করতে পারে। যদি দেশের উপকার করতে হয়, তবে প্রাচীন নিয়ম না মানলেও চলবে।