তানজানিয়ার গ্রাম আলোকিত করে চীনা প্রতিষ্ঠান
তানজানিয়ার গেইতা জেলার একটি গ্রামে তরুণ আনাস্তাসিয়া জুমা কাকিলি তার বাসার দরজার সামনে প্রত্যাশিতভাবে চীনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সংযুক্ত করতে দেখেন। রাতে যখন তিনি তা চালু করেন, উজ্জ্বল ও উষ্ণ আলোয় ভরে যায় ছোট ঘরটি। এক একটি পরিবারে আলো জ্বলে ওঠে আর দেখে মনে হয় যেন একটি ‘স্থল আকাশগঙ্গা’। এ রকম দৃশ্য আগে কখনও গ্রামে দেখা যায়নি।
গত ২৬ এপ্রিল চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের পূর্ব আফ্রিকা কোম্পানির নির্মিত তানজানিয়ার গ্রামীণ গ্রিড মাঝারি ও নিম্ন ভোল্টেজ ট্রান্সমিশন লাইন টার্নকি প্রকল্পের ৫ ধাপের প্রকল্প সার্বিকভাবে চালু হয়। গেইতা জেলার ৮ হাজারের বেশি অধিবাসী ধারাবাহিকভাবে মিটারে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
প্রকল্পটি গেইতা জেলায় অবস্থিত। এতে ৫৩৭.৮৭ কিলোমিটারের মাঝারি-ভোল্টেজ লাইন, ৩৮০.৯৮ কিলোমিটারের নিম্ন-ভোল্টেজ লাইন রয়েছে এবং ১২৭টি বিতরণ ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটি ১২৭টি গ্রামের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্কুলের মতো উন্মুক্ত স্থাপনার জন্য পরিষেবা প্রদান করবে। যা ব্যাপকভাবে স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনমান উন্নীত করবে।
গ্রামবাসী উপেন্দো অলিভা বলেন, আগে শুধু তেলের বাতি বা মোমবাতির ব্যবহার ছিল। আলো-অন্ধকারের একটা ব্যাপার ছিল এবং অগ্নিকাণ্ডেরও ভয় ছিল। সন্ধ্যায় বিনোদন ছিল না, রাত হলেই ঘুমাতে হতো। এখন গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়েছে। কারো বাসায় টিভি বা রেডিও চলে। সবাই মিলিত হয়ে অনুষ্ঠান দেখে বা আড্ডা দেয়। এতে জীবন আরো বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে।
প্রকল্পটি শুধু স্থানীয় অধিবাসীদের জীবন পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে তা নয়, বরং বহু স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রযুক্তিগত কর্মী তৈরি করেছে । অধিবাসীদের চোখ প্রত্যাশায় উজ্জ্বল হয়েছে এবং আয়ও বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।