আকাশ ছুঁতে চাই পর্ব ২২
লিন বলেন, বাংলাদেশের নারী ও চীনের নারীরা অবশ্যই বন্ধু হতে পারেন। চীনের তরুণী লিন বাংলাদেশকে ভালোবাসেন।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: শান্তা মারিয়া
নতুন যুগের নারী আয়নাগুল
চীনের উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিনচিয়াংয়ের নারীরা এখন নতুনভাবে এগিয়ে চলছেন জীবনের পথে। তারা বিভিন্ন পেশা গ্রহণ করছেন এবং গ্রামীণ পুনর্জাগরণে অবদান রাখছেন।
সিনচিয়াংয়ের নতুন প্রজন্মের একজন নারীর কথা শুনবো এখন যিনি শিকক্ষকতা পেশায় পেয়েছেন পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা।
চীনের ইউগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিনচিয়াংয়ের এক তরুণী আয়নাগুল বাগজুলি।কিজিলসু কিরগিজ স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারের আকতো কাউন্টির জামাতরিকি মিডল স্কুলের সাহিত্যের শিক্ষিকা আয়নাগুল।
কিরগিজ জাতিগোষ্ঠীর নারী তিনি। ছাত্রছাত্রী ও সহকর্মীদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় আয়নাগুল। কেন তার এই জনপ্রিয়তা? একদিন আয়নাগুল তার শ্রেণীকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছেন থাং রাজবংশের সময়কার বিখ্যাত কবিতা ‘শেষ বসন্ত। ক্লাসরুমের জানালা দিয়ে তার চোখে পড়লো বাইরের বাগানে সত্যিই সুন্দর ফুল ফুটেছে, নীল আকাশে ভেসে যাচ্ছে হালকা সাদা মেঘ। আয়নাগুল তার ছাত্রছাত্রীদের বললেন, চলো আমরা বাগানে গিয়ে লেখাপড়া করি। সবাইকে নিয়ে তিনি চলে গেলেন বাগানে। সেখানেই সেদিন চললো সাহিত্যের পাঠ।
২৭ বছর বয়সী আয়নাগুলকে জীবনে সংগ্রাম কম করতে হয়নি। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। তাদের তিনভাইবোনকে বড় করে তোলেন মা। স্বামীকে হারিয়ে মা আর দ্বিতীয় বিয়ে করেননি শুধু সন্তানদের কথা ভেবে।
কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত একটি সহায়তা প্রকল্পের অধীনে সিনচিয়াংয়ের এক লাখ দরিদ্র শিক্ষার্থীর অন্যতম ছিলেন আয়নাগুল।
আয়নাগুল বলেন, ‘সরকারী সহায়তা না পেলে আমি সিনচিয়াংয়ের বাইরেই কখনও যেতে পারতাম না। লেখাপড়া শেখাও হতো না। রাজধানীতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া তো অনেক দূরের কথা।
আয়নাগুল প্রথমে চেচিয়াং প্রদেশে পরে বেইজিং শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। তার লেখাপড়া এবং সিনচিয়াং যাতায়াত, শহরে থাকা খাওয়াসহ সবরকম খরচ দেয় সরকার।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর নিজের শহরে ফিরে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। তিন বছরের মধ্যেই তিনি সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পান।
আয়নাগুল তার শিক্ষার্থীদের শুধু গতানুগতিক শিক্ষাই দেন না, তিনি তাদের কাছে ব্যাখ্যা করেন জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য। অন্যান্য অনেক বড় শহর থেকে তিনি চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু নিজের শহরে শিক্ষার প্রসার ঘটানো তার লক্ষ্য। তাই তিনি ছোট্ট হোম টাউনের শিক্ষকতা পেশাতেই খুঁজে পান তৃপ্তি। আয়নাগুল হলেন চীনের সেইসব তরুণ প্রজন্মের নারী যারা নিজেদের গ্রামকে উন্নত করার এবং গ্রামীণ পুনর্জাগরণে কাজ করার মহান ব্রত গ্রহণ করেছেন।
নারী ও শিশু-বিষয়ে সি চিন পিংয়ের বক্তব্য নিয়ে বই প্রকাশ
‘নারী ও শিশু-বিষয়ক সি চিন পিংয়ের বক্তব্য’ শীর্ষক একটি বই সম্প্রতি চীনে প্রকাশিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় পার্টি সাহিত্য প্রেসের উদ্যোগে তা দেশব্যাপী প্রকাশিত হয়।