সিনচিয়াংয়ের মরুভূমিতে বাড়ছে চাষাবাদ
বর্তমান সিনচিয়াংয়ে চলছে শীতকাল। ঘরের বাইরে ঠান্ডা, বরফ ও তুষারে ভরপুর। তবে বিভিন্ন গ্রামের গ্রীনহাউসে দেখা মিলছে বিভিন্ন সবজি, ফল ও ফসলের।
তারবাগাতাই এলাকার উসু শহরে কৃষকরা সবজির চারা রোপনের কাজ করছেন। মাটি লোড করা, প্লেট সাজানো ও সুশৃঙ্খলভাবে বীজ বপনের কাজ করেন তাঁরা। গ্রীনহাউসে লেটুস, মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়। তাঁরা কেবল সবজি নয়, বরং তাদের আশা চাষ করেন।
তারবাগাতাই এলাকার উসু শহরের চুরাশিটি থানার বাহাই গ্রামের বাসিন্দা লিয়াং ছেং শান বলেন,
“আমার ৩,৩৩৩ বর্গমিটার সবজির মাঠ আছে। আমি আগামি মাসে সবজি চাষ করবো। মে মাসের প্রথম দিকে ফসল হবে। প্রতি ৬৬৬ বর্গমিটার জমিতে উত্পাদিত সবজির দাম প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার ইউয়ান”।
আকসু এলাকার উশি জেলায় গ্রীনহাউসের টমেটো বড় হয়েছে। জেলাটি আগে মরুভূমি ছিল। সবজি শিল্পের প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার পর বর্তমানে জেলাটিতে পাঁচ শতাধিক আধুনিক সৌর গ্রীনহাউস নির্মিত হয়েছে। তাতে এক হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্ট হয়েছে। জেলাটির বার্ষিক মাথাপিছু আয় এখন ২৪ হাজার ইউয়ান।
বর্তমানে দক্ষিণ সিনচিয়াংয়ে সবজি চাষের আয়তন পুরো সিনচিয়াংয়ের ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে দক্ষিণ সিনচিয়াং হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সবজি উত্পাদন এলাকা।
সিনচিয়াংয়ের আকসু মরুভূমি-শাসনের গল্প
সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের আকসু এলাকা চীনের বৃহত্তম মরুভূমি তাকলামাকানের উত্তর দিকে অবস্থিত। ‘এক বাটি চালের আধা অংশ বালি’—এই ছিল গত শতাব্দীর আশির দশকের আগের এখানকার স্থানীয় মানুষের মাঝে প্রচলিত একটি কথা। ৩০ বছর পরে, আগের অনুর্বর মরুভূমি গোবিতে গড়ে উঠেছে মরুদ্যান। মরুভূমিকে বনে এবং গোবিকে বাগানে পরিণত করার এক অলৌকিক ঘটনা এটি।