বাংলা

নি হুয়া: পাহাড়ের বাচ্চাদের জোরে গান গাইতে দিতে চাই

CMGPublished: 2023-09-22 15:38:37
Share
Share this with Close
Messenger Pinterest LinkedIn

"ছোট তারা এবং ফায়ারফ্লাইস মেঘের মধ্যে লুকিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়" "আমার ছোট্ট স্কুলব্যাগে এখনও অনেক ছোট প্রশ্ন রয়েছে" "বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ এবং শীত মিলে একটি বৃত্ত হয়ে ওঠে; আগামীর দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাই"...

গত এক বছর ধরে, ইউননান প্রদেশের পুআর শহরের তাই ও ই সংখ্যালঘু জাতি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মাংকা স্কুল থেকে শিশুদের সুন্দর কণ্ঠে গানের আওয়াজ শোনা যায়। তাঁরা গানের মাধ্যমে জীবনের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং পাহাড়ের বাইরের পৃথিবীর প্রতি তাদের আকুলতা প্রকাশ করে। যে ব্যক্তি তাদের পথ দেখান, তিনি হলেন শিক্ষক নি হুয়া।

বাচ্চাদের নান্দনিক শিক্ষার ওপর এখন আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। নি হুয়া, যিনি সঙ্গীত ভালোবাসেন, নান্দনিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের দক্ষতা গড়ে তুলতে – তাদের মধ্যে সৌন্দর্যবোধ তৈরি করতে এবং তাদেরকে প্রেমময় ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

নি হুয়ার আদি শহর হল পুআর শহরের চিংমাই পাহাড়। হাজার বছরের পুরনো এই চায়ের বন থেকে বেরিয়ে আসা নি হুয়া ছোটবেলা থেকেই গানের স্বপ্ন পোষণ করতেন। কিন্তু পারিবারিক অবস্থা এবং বিরূপ পরিবেশের কারণে, তিনি সংগীত ও মঞ্চে উন্মুক্ত হওয়ার বেশি সুযোগ পাননি। তাই একজন বিশেষ শিক্ষক হওয়ার পর, নি হুয়া গ্রামীণ শিশুদের সাহায্য করতে এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন।

"আমার মতে, পাহাড়ের শিশুরা ভালো গান গাইতে পারে, কিন্তু তাদের শেখার ও নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ বা উপায় নেই," নি হুয়া বলেন। বাচ্চাদের একজন গাইডের অভাব ছিল এবং তিনি সেই পথপ্রদর্শক হতে, তাদের নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী করতে চেষ্টা শুরু করেন।

চিংকু জেলার শিবেন স্কুলে, নি হুয়া তার নিজের রচিত গান "লিটল স্কুল ব্যাগ"-এর কথা লিখেছেন। তিনি বাচ্চাদের নিয়ে একসাথে গানটি গেয়েছেন এবং রেকর্ড করেছেন। গানটি ভিডিও প্ল্যাটফর্মে হিট হয়ে ওঠে। এ ভিডিওর ফলে আরও বেশি করে মানুষ পাহাড়ে থাকা শিশুদের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করে। তবে নি হুয়াকে যা সবচেয়ে বেশি তৃপ্ত করে তোলে তা হল, যে বাচ্চারা একসময় ক্যামেরার মুখোমুখি হওয়ার সময় কেঁদেছিল, তারা আস্তে আস্তে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।

শিবেন স্কুল ত্যাগ করার পর, নি হুয়া মাংকা স্কুলে আসেন এবং ইয়াং পাইওনিয়ার ব্রিগেডের কাউন্সেলর এবং প্রি-স্কুল ক্লাসের প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সঙ্গীত ক্লাস এবং তৃতীয় গ্রেড বিজ্ঞান ক্লাস নেওয়ার দায়িত্বও পালন করেন। এখানে, নি হুয়া "লিটল স্টার ফায়ারফ্লাই" রচনা করেন। এই গানে পিতামাতা ও পরিবারের প্রতি শিশুদের অনুভূতি প্রকাশিত হয়েছে।

নি হুয়া বলেন, তিনি যখন প্রথমে মাংকা প্রাথমিক স্কুলে আসেন, তখন বেশকিছু ছাত্র প্রতিদিন কাঁদতো। তাদের মা ও বাড়ির কথা খুব মনে পড়তো। নি হুয়া তাদের নিয়ে একসাথে গান করেন এবং ভিডিও প্ল্যাটফর্মে গানের ভিডিও পোস্ট করেন, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস তৈরিতে সাহায্য করে। বাচ্চাদের গানের ভিডিওগুলো আরো বেশি মানুষের দৃষ্টিতে আসার পর, জেলার বিভিন্ন পারফরম্যান্সে অংশগ্রহণের জন্য তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাচ্চাদের ভীতি কেটে যায়। দর্শকদের মুখোমুখি হওয়ার সময় তাদের আত্মবিশ্বাস থেকে নি হুয়া সন্তুষ্ট এবং গর্বিত হন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এটি নান্দনিক শিক্ষার শক্তি।

একজন গ্রামীণ শিক্ষক হিসেবে, নি হুয়া গ্রামীণ শিশুদের কী ধরনের নান্দনিক শিক্ষা প্রয়োজন এবং কীভাবে গ্রামীণ নান্দনিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো যায়, তাও অনুসন্ধান করেছেন। "শৈল্পিক সাক্ষরতা শিশুদের ব্যাপক সাক্ষরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং গ্রামীণ শিশুদের বিকাশের পথে শিল্প থেকে আরও পুষ্টি প্রয়োজন।" নি হুয়াও আশা করেন যে, শিশুরা আত্মবিশ্বাসী হতে পারে এবং নিজেদের সেরা সংস্করণ হতে পারে।

২০১৯ সালের শেষের দিকে তিনি ভিডিও শুটিং শুরু করার পর থেকে, নি হুয়া একটি ভিডিও প্ল্যাটফর্মে ২.৫৩ লাখ অনুসারী পেয়েছেন। এখন নি হুয়া "তার স্বপ্ন গড়তে" পরবর্তী স্কুলে চলে যাবেন। নি হুয়া সবসময় আশা করেন যে, শিশুরা প্রেমময়ী মানুষ হয়ে উঠবে, এবং এই ভালোবাসা শুধুমাত্র অন্যদের জন্য নয়, নিজেদের জন্য, জীবন, প্রকৃতি এবং স্বদেশের জন্যও বটে।

Share this story on

Messenger Pinterest LinkedIn